একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের ৩০ জন ফিলিস্তিনির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ১৭ ডিসেম্বর- ফিলিস্তিনের পশ্চিম গাজা সিটির একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের অন্তত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, নিহতরা সালেম পরিবারের সদস্য। খবর প্রকাশ করেছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে জানায়, ২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর গাজা সিটির আল-রিমাল এলাকায় সালেম পরিবারের বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় পরিবারের বহু সদস্য নিহত হন। সাম্প্রতিক উদ্ধারকাজে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একে একে ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সংস্থাটির ধারণা, ওই হামলায় সালেম পরিবারের প্রায় ৬০ জন সদস্য নিহত হয়ে থাকতে পারেন। অনেক মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বাড়িটি ছিল গাজায় সিভিল ডিফেন্সের নতুন করে শুরু করা একটি সংগঠিত উদ্ধার অভিযানের প্রথম স্থান। অভিযানের লক্ষ্য ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজারো ফিলিস্তিনিকে খুঁজে বের করা। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা ঝুঁকি, ধ্বংসযজ্ঞ এবং সরঞ্জামের অভাবে এসব উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়ে আসছিল।
সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তাদের কাছে বর্তমানে একটি এক্সকাভেটরসহ ন্যূনতম যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী বর্তমানে গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা দখলে রেখেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও উপত্যকার বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। একই সময়ে আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও একাধিকবার তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মানুষের ভাগ্য নিয়ে তাই উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে।