দ্বিতীয়বার সুদের হার বাড়াল অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (আরবিএ) চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়িয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সুদের হার ০.২৫ শতাংশ…
মেলবোর্ন, ২৬ ডিসেম্বর- কম্বোডিয়ার বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিষ্ণু দেবের একটি মূর্তি ভাঙার ঘটনায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূর্তিটি ভাঙা হয়েছে, হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তবে এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ।
থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তবর্তী প্রিয়াহ বিহেই প্রদেশের আন সিস এলাকায় ২০১৪ সালে বিষ্ণু দেবের একটি বিশাল মূর্তি স্থাপন করা হয়। গত সোমবার থাইল্যান্ডের সেনারা ওই মূর্তিটি ভেঙে ফেলেন। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বিষ্ণু মূর্তি ভাঙার মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। নয়াদিল্লির মতে, ধর্মীয় প্রতীক ও বিশ্বাসকে সম্মান করা সব পক্ষের দায়িত্ব, বিশেষ করে এমন সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলে।
সমালোচনার মুখে থাইল্যান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, বিতর্কিত এলাকাটি তাদের ভূখণ্ডের অংশ এবং সম্প্রতি সেটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার স্বার্থে থাকা স্থাপনাটি অপসারণ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপ কোনো ধর্ম বা বিশ্বাসকে অবমাননার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি।
থাইল্যান্ড আরও দাবি করেছে, মূর্তিটি কোনো সক্রিয় ধর্মীয় স্থানের অংশ ছিল না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে কেবল একটি মূর্তি ছিল, নিয়মিত কোনো উপাসনা বা ধর্মীয় কার্যক্রম চলত না।
তবে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই স্থানে বৌদ্ধ ও হিন্দু উভয় ধর্মাবলম্বীরাই শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন এবং এলাকাটি স্থানীয়ভাবে একটি ধর্মীয় স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ডিসেম্বরের শুরু থেকে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষ চলছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন এবং কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ধর্মীয় প্রতীকের মতো সংবেদনশীল বিষয় জড়িয়ে পড়ায় সীমান্ত বিরোধ আরও জটিল রূপ নিতে পারে। কূটনৈতিক সমাধানের পথে না হাঁটলে এই উত্তেজনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au