আমরা প্রেমে ছিলাম কি না,কেউ জানতে চায়নি: পরীমনি
মেলবোর্ন, ২০ জুন- ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে চিত্রনায়িকা…
মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর- শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ভারতে পালিয়ে গেছেন এবং তাকে সহায়তার অভিযোগে সেখানে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে-ঢাকা মহানগর পুলিশের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে মেঘালয় পুলিশ। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফও একই অবস্থান নিয়েছে।
রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই এবং এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয়ও করা হয়নি।
এর আগে রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, হাদি হত্যার প্রধান দুই সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ও আলমগীর শেখ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। তিনি দাবি করেন, মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে ‘ইনফরমাল চ্যানেলে’ যোগাযোগ করে জানা গেছে, ফয়সালকে সহায়তার অভিযোগে পুত্তি ও সামি নামে দুজনকে সেখানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হিন্দুস্তান টাইমস অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মেঘালয় পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগই করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের কাউকেই গারো পাহাড় এলাকায় শনাক্ত করা যায়নি এবং কোনো গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেনি।
মেঘালয় পুলিশ সদর দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, “পুত্তি বা সামি নামে কাউকে মেঘালয়ের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া বিবরণ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাচাই বা সমন্বয় ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফও একই সুরে কথা বলেছে। বিএসএফের মেঘালয় ফ্রন্টিয়ারের মহাপরিদর্শক ওপি উপাধ্যায় বলেন, “হালুয়াঘাট সেক্টর দিয়ে এসব ব্যক্তির আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। বিএসএফের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য বা রিপোর্ট নেই। দাবিগুলো ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।”
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হওয়ায় আসামিরা শনাক্ত হওয়ার আগেই দেশ ছেড়ে পালান। তিনি বলেন, ফয়সাল ও আলমগীর প্রথমে ঢাকা থেকে আমিনবাজার, এরপর মানিকগঞ্জের কালামপুর হয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে যান। সেখানে ফিলিপ নামে এক ব্যক্তি তাদের সীমান্ত পার করিয়ে পুত্তির কাছে হস্তান্তর করেন এবং পরে সামি নামে এক ট্যাক্সিচালক তাদের মেঘালয়ের তুরা শহরে নিয়ে যান।
হাদি হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছয়জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল ও আলমগীর এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এদিকে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে চাপ বাড়ছে সরকারের ওপর। হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধসহ কর্মসূচি পালন করছে। তদন্তের অগ্রগতি ও সন্দেহভাজনদের অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au