আমরা প্রেমে ছিলাম কি না,কেউ জানতে চায়নি: পরীমনি
মেলবোর্ন, ২০ জুন- ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে চিত্রনায়িকা…
মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর- কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের আগের রাতজুড়ে বসে বসে বোমা তৈরি করেছিলেন মাদ্রাসাটির পরিচালক শেখ আল আমিন। রোববার আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা এই তথ্য জানান।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল নামে ওই মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে মাদ্রাসার একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আশপাশের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় আল আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম ও তার দুই শিশুসন্তানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে রেখে আল আমিন পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর মাদ্রাসা থেকে দুটি তৈরি বোমা, পাঁচটি ইলেকট্রিক বোমা সদৃশ বস্তুসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার তালিকায় রয়েছে ৩৯৪ লিটার তরল রাসায়নিক, ২৭ কেজি পাউডার জাতীয় পদার্থ, লোহার বল ও তারকাটা, শটগানের কার্তুজ, জিহাদি বই, হ্যান্ডকাফ, টাকা গণনার মেশিন, কম্পিউটার ও একটি মোটরসাইকেল।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলায় শেখ আল আমিনসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রধান সন্দেহভাজন আল আমিন পলাতক রয়েছেন।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন আল আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম, তার আত্মীয় ইয়াসমিন আক্তার ও আসমানী খাতুনসহ আরও তিনজন পুরুষ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা ও বাগেরহাট থেকে অতিরিক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতীতেও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।
রোববার আদালতে রিমান্ড শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার সারারাত বোমা তৈরির পর ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমান আল আমিন। সকালে বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি আদালতকে জানান, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন এবং তারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
তবে ঢাকার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জঙ্গি’ তকমা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, তদন্ত চলছে এবং গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আলামত পাওয়া যাচ্ছে।
আদালতে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আল আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম বলেন, তিনি স্বামীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতেন না। তার ভাষায়, “জানলে আগেই পুলিশকে জানাতাম। কারণ সে কিছু করলে আমরাই ফেঁসে যাব এই ভয় ছিল।” তিনি দাবি করেন, তার ভাই বা আত্মীয়দের কেউ এই ঘটনায় জড়িত নন এবং আল আমিন আগেও তাকে নির্যাতন করতেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল আমিন এর আগেও নব্য জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০১৭ সালের একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তিনি আসামি ছিলেন বলেও তথ্য রয়েছে।
বিস্ফোরণে মাদ্রাসার চার কক্ষের মধ্যে দুটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বাকি কক্ষগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন আল আমিনের স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান।
এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বলছে, পলাতক আল আমিনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au