বক্তব্য রাখছেন আবু নূর মো. শামসুজ্জামান
মেলবোর্ন, ৩০ ডিসেম্বর- একটি দীর্ঘদিনের মামলার কারণে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় সমসংখ্যক সহকারী শিক্ষকের পদোন্নতি ও নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমও আটকে আছে বলে তিনি জানান।
সোমবার ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ভবনে অনুষ্ঠিত ‘প্রাথমিক স্তরে শিক্ষায় শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিখন পদ্ধতি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে গণসাক্ষরতা অভিযান ও নেটজ বাংলাদেশ।
মহাপরিচালক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলার কারণে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছে না। মামলা নিষ্পত্তি হলে ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ওই পদোন্নতির ফলে সৃষ্ট শূন্য পদে নতুন করে ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পথ খুলবে।
তিনি বলেন, এই স্থবিরতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা ও শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত এই মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিগত সরকারের সময় থেকে শুরু হয়ে মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে আছে।
মহাপরিচালক আরও বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে প্রাথমিক শিক্ষায় জনবল সংকট আরও গভীর হবে। এতে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার গুণগত মানে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।