মেলবোর্ন, ৩১ ডিসেম্বর- সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী মুকাল্লায় বিমান হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার সীমিত আকারে পরিচালিত এই হামলার লক্ষ্য ছিল দক্ষিণপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের জন্য আনা অস্ত্র, বলে জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার ও সৌদি আরব।
চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হারদামাউত দখল করে নেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত এসটিসি। এর পর থেকেই মুকাল্লা বন্দর থেকে সরে যেতে গোষ্ঠীটিকে একাধিকবার আহ্বান জানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এসটিসি সেই আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিমান হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইয়েমেন সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বন্দরে আনা অস্ত্রগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় এসটিসির জন্য সরবরাহ করা হয়েছিল। সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, শনিবার ও রোববার মুকাল্লা বন্দরে দুটি জাহাজ প্রবেশ করে, যেগুলো জোটের অনুমতি ছাড়া এসেছে এবং ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। ওই জাহাজ থেকেই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র খালাস করা হয়।
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি আরব জানায়, তাদের জাতীয় নিরাপত্তা একটি ‘রেড লাইন’ এবং তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সংযুক্ত আরব আমিরাত দায়িত্বশীল ভূমিকা নেবে।
এই ঘটনার পর ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধান রাশেদ আল-আলিমি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছেন, ইয়েমেন থেকে আমিরাতের সব সেনা সদস্যকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুকাল্লা বন্দরে এই বিমান হামলা শুধু ইয়েমেন সংকটকেই নয়, বরং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের মিত্রতার সম্পর্কেও প্রকাশ্য টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইয়েমেনে ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করা এই দুই দেশের মধ্যে বিভাজন আরও গভীর হলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
সূত্র: আল জাজিরা