সাইবার ফাঁদে ১৩ হাজার নারী
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- দেশে সাইবার অপরাধের জালে ক্রমেই বাড়ছে নারীদের ভুক্তভোগীর সংখ্যা। গত এক বছরে ১৩ হাজারেরও বেশি নারী সাইবার হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে অপরাধ…
মেলবোর্ন ৩১ ডিসেম্বর- যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে সংযুক্তকারী চ্যানেল টানেলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ইউরোস্টারের রেল চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) শুরু হওয়া এই সংকটে নতুন বছর সামনে রেখে যাত্রাপথে নামা হাজারো যাত্রী দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েন।
ইউরোস্টার পশ্চিম ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রেলসেবা, যা যুক্তরাজ্য ছাড়াও ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। বছরের শেষ সময়ে ভ্রমণচাপ বেশি থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, অনেকেই ছয় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ট্রেনের ভেতর আটকে ছিলেন। লন্ডন থেকে প্যারিসগামী এক যাত্রী বিবিসিকে বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ১ মিনিটে ট্রেনে উঠলেও রাত ৩টা পর্যন্ত তিনি টানেলের মুখে থেমে থাকা ট্রেনেই ছিলেন। কর্মীরা তাকে জানিয়ে দেন, প্যারিসে পৌঁছানো কিংবা লন্ডনে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা সমান। তার ভাষায়, নতুন বছরের পরিকল্পনা এখন পুরোপুরি টানেল অপারেটরদের হাতে।
ইউরোস্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার দিনের মধ্যেই সব পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে বিলম্ব ও শেষ মুহূর্তে ট্রেন বাতিলের ঝুঁকি রয়ে গেছে। এরই মধ্যে লন্ডন থেকে প্যারিসগামী সকাল ৬টার একটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইনের ত্রুটি এবং একটি ট্রেন বিকল হয়ে পড়ায় চ্যানেল টানেলের সব রুট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লন্ডন থেকে প্যারিস, ব্রাসেলস ও আমস্টারডামগামী সব ইউরোস্টার ট্রেন বাতিল করা হয়। সন্ধ্যার পর আংশিকভাবে কিছু পরিষেবা চালু হলেও টানেলের দুটি লাইনের মধ্যে তখন মাত্র একটি সচল ছিল।
চ্যানেল টানেল পরিচালনাকারী গেটলিংক জানায়, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সারা রাত কাজ করা হয়েছে। বুধবার সকালে ইউরোস্টারের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, পরিষেবা পুনরায় চালু হলেও অবকাঠামোগত জটিলতার কারণে বিলম্ব ও বাতিলের আশঙ্কা এখনো রয়েছে। যাত্রীদের নিয়মিত অনলাইন আপডেট দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের ডেনিস ভ্যান ডার স্টিন পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নতুন বছর উদযাপনের উদ্দেশ্যে আমস্টারডাম যাচ্ছিলেন। কিন্তু ছয় ঘণ্টা ট্রেনেই আটকে থাকতে হয় তাকে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় কেউ ঘুমাচ্ছিল, কেউ আবার উৎকণ্ঠায় ভুগছিল।
আরেক যাত্রী জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় মানসিক অবস্থা রোলারকোস্টারের মতো হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তার ট্রেন ব্রাসেলসে পৌঁছালেও দীর্ঘ সময়ের চাপ তাকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনে আটকে পড়া বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোস্টারের এক ট্রেনচালকের পাঠানো ছবিতে রেললাইনের ওপর ছড়িয়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারও দেখা যায়।
এদিকে, গাড়ি নিয়ে চ্যানেল টানেল পার হওয়ার লি-শ্যাটল পরিষেবায়ও ভিড় বাড়ে। ফোকস্টোনে টার্মিনালের কাছে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। জার্মানি থেকে ফেরার পথে থাকা টিম ব্রাউন জানান, তিনি খাবার ও পানির সুযোগ ছাড়াই তিন ঘণ্টার বেশি সময় আটকে ছিলেন।
ইউরোস্টার জানিয়েছে, বাতিল হওয়া ট্রেনের যাত্রীরা বিনা খরচে যাত্রার তারিখ পরিবর্তন, সম্পূর্ণ রিফান্ড বা ই-ভাউচার নিতে পারবেন। পাশাপাশি যাত্রীদের বাতিল হওয়া ট্রেনের জন্য স্টেশনে না আসার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au