আলী খামেনির শেষকৃত্যের সময়সূচি ঘোষণা করল ইরান
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করেছে…
মেলবোর্ন, ১ জানুয়ারী- ইরানের অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিয়ে কয়েক দিনের বিক্ষোভের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের ফাসা শহরে একটি সরকারি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার প্রাদেশিক গভর্নরের দপ্তরের একাংশে হামলায় দরজা ও কাচ ভাঙচুরের কথা নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ‘দৃঢ় জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রধান প্রসিকিউটর।
বিচার মন্ত্রণালয়ের মিজান সংবাদ সংস্থার বরাতে ফাসা শহরের বিচার বিভাগের প্রধান হামেদ অস্তোভার জানান, একদল লোক গভর্নরের দপ্তরের অংশবিশেষে হামলা চালায়। তবে হামলার ধরন বা জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এই ঘটনার আগে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ বলেন, জনগণের অর্থনৈতিক উদ্বেগ বৈধ হলেও সহিংসতা বা জনসম্পত্তি ধ্বংস বরদাশত করা হবে না। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তিনি বলেন, জীবিকাসংক্রান্ত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সামাজিক বাস্তবতার অংশ, তবে অর্থনৈতিক দাবিকে অশান্তি বা বাইরের শক্তির চক্রান্ত বাস্তবায়নের হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী সমানুপাতিক ও দৃঢ় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার তেহরানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন বাজারে দোকান বন্ধের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেয়। মঙ্গলবার রাজধানীর অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি বার্তা তেহরানের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংস্থাটি তাদের পারসিয়ান ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ‘মাঠে পাশে থাকার’ দাবি করে সবাইকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানায়। ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইসরায়েল তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় নাশকতা ও বিজ্ঞানী হত্যায় জড়িত।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ রেজা তাঘিদোকত জানান, মঙ্গলবার চার শিক্ষার্থীকে আটক করা হলেও রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বিক্ষোভ এখনো সংখ্যায় সীমিত এবং মূলত মধ্য তেহরানেই কেন্দ্রীভূত। এক কোটির বেশি মানুষের রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় দোকানপাট স্বাভাবিক রয়েছে।
ইরানের অর্থনীতি বহু বছর ধরে মন্দায়। পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর নিষেধাজ্ঞা অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রিয়ালের বড় অবমূল্যায়নে ডলারের বিপরীতে এর মান এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমেছে। ফলে কিছু মৌলিক পণ্য সাধারণ মানুষের একটি অংশের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
দৈনিক এতেমাদকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক বিক্ষোভকারী বলেন, এখানে সবাই এক টুকরো রুটির জন্য লড়ছে। অর্থনৈতিক সংকটের এই বাস্তবতায় বিক্ষোভ কত দূর গড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au