মেলবোর্ন, ১ জানুয়ারি- ইউরোপীয় এয়ারবাস না মার্কিন বোয়িং-কোন কোম্পানির কাছ থেকে উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর অবশেষে বোয়িংয়ের দিকেই ঝুঁকল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিমান পরিচালনা পর্ষদ ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বৃহস্পতিবার জানান, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোয়িং ও এয়ারবাস-দুই পক্ষের প্রস্তাবই আলোচনায় ছিল। সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বোয়িংয়ের দেওয়া আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় পর্ষদ।
গত দুই বছর ধরে উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ নিজেই সেই প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন।
তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাবও পড়ে বাংলাদেশের ওপর। ৩৫ শতাংশ শুল্কের ঝুঁকি এড়াতে গত জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দেয়, যা এয়ারবাসের সঙ্গে আগের সমঝোতাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোও সক্রিয় হয়ে ওঠে। গত জুনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের যুক্তরাজ্য সফরের সময় এয়ারবাসের শীর্ষ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতরা একযোগে এয়ারবাসকে ‘যৌক্তিকভাবে বিবেচনার’ আহ্বান জানান। এমনকি জার্মান রাষ্ট্রদূত প্রকাশ্যে সতর্ক করেন, এয়ারবাসের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে।
এই চাপ ও দেনদরবারের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত বিমানের পরিচালনা পর্ষদ বোয়িংয়ের প্রস্তাবেই সম্মতি দিয়েছে। বোয়িংয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি সুপরিসর বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ন্যারো বডির বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ।
বিমান সূত্র জানায়, এখন দরকষাকষি ও চূড়ান্ত চুক্তির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি প্রতিটি উড়োজাহাজের মূল্য, ডেলিভারি সময়সূচি এবং কারিগরি শর্ত নিয়ে বোয়িং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে।
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে বিমানের বহর আধুনিকায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।