তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, ১৮ জনের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা অতীতের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। চরম…
মেলবোর্ন, ৫ জানুয়ারি- ইংল্যান্ডে ম্যাকাবি তেল আবিব ফুটবল ক্লাবের সমর্থকদের মাঠে ঢোকা নিষিদ্ধ করার আগে যেসব মসজিদ ও মুসলিম সংগঠনের সঙ্গে পুলিশ আলোচনা করেছিল, সেগুলোর অন্তত তিনটিতে আগে ইহুদিবিরোধী বক্তব্য দেওয়া বক্তারা বক্তব্য রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এই তথ্য প্রকাশ করে। পরে রোববার দ্য জেরুজালেম পোস্ট আলাদাভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
গত বছরের নভেম্বরে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে ম্যাকাবি তেল আবিবের সমর্থকদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করে। সিদ্ধান্তটি নেওয়ার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। পরে অভিযোগ ওঠে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পুলিশ ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছে। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা হয় এবং হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটি বিষয়টি তদন্তে নেয়।
ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের প্রধান কনস্টেবল ক্রেইগ গিলফোর্ড গত ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানান, ম্যাচের আগে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে মুসলিম কমিউনিটি নেতা ও মসজিদের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। যেসব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, সেগুলোর মধ্যে ছিল মুসলিম রেফারেন্স গ্রুপ, বাহু ট্রাস্ট, গ্রিন লেন মসজিদ, মসজিদ আল ফালাহ, উইটন ইসলামিক সেন্টার, গ্রেট বার মুসলিম ফাউন্ডেশন, আল হাবিব ট্রাস্ট এবং জামিয়া মসজিদ সাদাম হুসেইন।
এখন অভিযোগ উঠেছে, এসব মসজিদের কয়েকটিতে আগে এমন বক্তারা বক্তব্য দিয়েছেন, যারা ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন বা সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, জামিয়া মসজিদের এক বক্তা জাহির মাহমুদ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর দেওয়া এক খুতবায় ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও সহিংস ভাষায় বক্তব্য দেন। কয়েকজন বিশ্লেষকের দাবি, এই মসজিদটি আগে মুসলিম ব্রাদারহুড–সংশ্লিষ্টদের প্রভাবের মধ্যে ছিল।
গ্রিন লেন মসজিদ নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সেখানে বক্তব্য দেওয়া এক বক্তা নারীকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার পদ্ধতি নিয়ে কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ওই মসজিদের এক বক্তা সমকামিতা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্য সরকার মসজিদটির জন্য নির্ধারিত ২২ লাখ পাউন্ডের সরকারি অনুদান স্থগিত করে। একই বক্তার বিরুদ্ধে ইহুদিবিরোধী বক্তব্য এবং উগ্রপন্থী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
আল হাবিব ট্রাস্টেও বিতর্কিত এক বক্তার উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি অনুসারীদের একটি কুখ্যাত ইহুদিবিরোধী বই পড়তে উৎসাহ দেন। ওই ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিয়া আলেম ইয়াসের আল হাবিবের নামও উঠে এসেছে। তাঁর নির্মিত একটি চলচ্চিত্র ২০২২ সালে ধর্মীয় বিভাজন উসকে দেওয়ার অভিযোগে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে পড়ে।
তবে এসব মসজিদ ও সংগঠন ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর একটি খোলা চিঠিতে বার্মিংহামে ইহুদিবিদ্বেষ ও ইসলামবিদ্বেষের নিন্দা জানায় এবং গাজার মানুষের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। যদিও ওই চিঠিতে ৭ অক্টোবরের ঘটনায় কোনো ইসরায়েলি বা ইহুদি ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে রোববার দ্য সানডে টাইমস জানায়, ম্যাকাবি তেল আবিব সমর্থকদের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেটিকে যুক্তিসঙ্গত দেখাতে পুলিশ পরে ভুয়া প্রমাণ তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় কাউন্সিল ভেতরে সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আরও শক্ত যুক্তি দেখানোর চাপ তৈরি হয়। তখনই ওই তথাকথিত গোয়েন্দা তথ্য প্রস্তুত করা হয়।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্রিটিশ এমপি নিক টিমোথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ইসলামপন্থীদের চাপে পুলিশ ইসরায়েলি সমর্থকদের ভিলা পার্কে ঢোকা ঠেকাতে ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য বানিয়েছে। তাঁর মতে, এটি শুধু ফুটবল বা বিদেশি সমর্থকদের বিষয় নয়, বরং এটি যুক্তরাজ্যের কিছু এলাকায় চরমপন্থীদের প্রভাব কতটা গভীর, তা তুলে ধরেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au