কেমন আছেন মেঘমল্লার বসু?
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী এম্মী বির্কের কনসার্ট ট্যুরের সঙ্গে যুক্ত একটি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওই গাড়িতে এম্মী ছিলেন এবং…
মেলবোর্ন, ৫ জানুয়ারি- সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বিরোধের জেরে এক হিন্দু নারীর সৎকার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহ নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সৎকার সম্পন্ন হয়।
নিহত নারীর নাম মিনা বনিক (৫৫)। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার ঝিকিরা গ্রামের প্রয়াত গণেশ বনিকের স্ত্রী। রোববার ৪ জানুয়ারি রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘোষগাতি এলাকার একটি শ্মশানের নামকরণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। আগে শ্মশানটির নাম ছিল উল্লাপাড়া মহাশ্মশান। গত বছরের ৫ আগস্টের পর শ্মশানটি ঘোষগাতি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয় এক পক্ষ নতুন করে এর নাম রাখে ঘোষগাতি মহাশ্মশান। এই নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
মিনা বনিকের মৃত্যুর পর সৎকারের বিষয়টি জানাতে এলাকায় মাইকিং করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ঘোষগাতি মহাশ্মশান না বলে উল্লাপাড়া মহাশ্মশানে সৎকার হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। সোমবার ৫ জানুয়ারি সকালে সৎকারের প্রস্তুতির জন্য স্বজনেরা ঘোষগাতি মহাশ্মশানে গিয়ে চাবি চাইলে শ্মশানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বাবলু ভৌমিক চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
স্বজনদের অভিযোগ, বাবলু ভৌমিক তাঁদের বলেন, ঘোষগাতি মহাশ্মশানে নয়, উল্লাপাড়া মহাশ্মশানে নিয়ে গিয়ে সৎকার করতে হবে। তাঁর দাবি ছিল, এটি ঘোষগাতি মহাশ্মশান এবং উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নয়। যদিও কাগজপত্রে এখনো শ্মশানটির নাম উল্লাপাড়া মহাশ্মশান হিসেবেই রয়েছে বলে জানা গেছে।
সৎকারে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে নিহত নারীর পরিবার ও স্থানীয়রা মরদেহ নিয়ে সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ বিক্ষোভে তাঁরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
নিহতের ভাইপো সুকদেব সাহা ও রাজেশ কুমার সাহা বলেন, তাঁদের চাচির সৎকার ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। বিভেদ তৈরি করতেই শ্মশানের চাবি দেওয়া হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। বাধ্য হয়েই তাঁরা মরদেহ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে যান।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। পরে শ্মশানের চাবি দেওয়া হয় এবং দুপুরের দিকে সৎকার সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে বাবলু ভৌমিকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয় এবং পরে ওই নারীর সৎকার সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au