ফিল্ড ফায়ারিং মহড়ায় দুর্ঘটনা, দুই সৈনিক নিহত
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় দুই সৈনিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সেনাকর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য…
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত ঘটানো হিমবাহধসের আগে ওই এলাকায় বছরের এই সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছিল। নতুন এক আবহাওয়া বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হিমবাহধসের কয়েক দিন আগে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তবে এই অতিরিক্ত উষ্ণতার সঙ্গে হিমবাহধসের সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত হিমবাহ এলাকায় ২১ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বছরের এই সময়ের জন্য এমন তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি।
গত ৫৫ বছরেরও বেশি সময়ের আবহাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একই সময়ে ওই এলাকায় তাপমাত্রা কখনোই ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ায়নি। ফলে হিমবাহধসের আগে কয়েক দিনের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্কলি আর্থের প্রধান বিজ্ঞানী রবার্ট রোডে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, হিমবাহধসের স্থানে ২১ থেকে ২৬ আগস্টের গড় তাপমাত্রা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
রবার্ট রোডের বিশ্লেষণ আরও বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত উষ্ণতা না থাকলে এমন তাপমাত্রার পরিস্থিতি কয়েক হাজার বছরে একবার ঘটার মতো বিরল হতে পারত।
এদিকে ইউরোপের কোপার্নিকাস পর্যবেক্ষণ সংস্থার ১৯৭০ সাল থেকে সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করেও উষ্ণতার বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহধসের সময় লাংটাং অঞ্চলের ওই বছরের গ্রীষ্ম রেকর্ডের মধ্যে চতুর্থ উষ্ণতম ছিল।
অতিরিক্ত তাপমাত্রা হিমবাহধসের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। ফরাসি জলবায়ুবিদ ভ্যালেরি ম্যাসোঁ-দেলমোতের মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণে পাহাড়ের জমাট মাটি বা পারমাফ্রস্ট গলে যেতে পারে। এতে পাহাড়ের ঢাল ও হিমবাহের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে ধসের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
পারমাফ্রস্টকে অনেকটা বরফের সিমেন্টের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এটি পাহাড়ের পাথর ও ঢালকে শক্তভাবে ধরে রাখতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে এই জমাট স্তর গলে গেলে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।
দুর্যোগের কয়েক দিন আগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরফ গলার প্রমাণও স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে। ফ্রান্সের সিএনআরএসের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ এতিয়েন বের্তিয়ের বলেন, গলে যাওয়া বরফের পানি পাহাড়ের বিভিন্ন ফাটলে ঢুকে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধিকেই হিমবাহধসের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছেন না বিজ্ঞানীরা। গ্রেনোবল আল্পস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-রূপ বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টেন কুক বলেন, তাপমাত্রা বেড়ে গেলেই পাহাড়ধস হবে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। তার মতে, তাপমাত্রা যদি ধসের তাৎক্ষণিক কারণ বা ট্রিগার হয়ে থাকে, তাহলে পাহাড়টি এর আগেই অস্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছে থাকতে পারে।
এখন গবেষকেরা হিমবাহধসের আগের বছরগুলোতে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নড়াচড়া, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং বরফ গলার প্রবণতার মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
রবার্ট রোডের মতে, গলা বরফের পানি কিংবা পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ার কারণে পাহাড়ের ফাটলের আশপাশের পাথর উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছিল, এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে সেটিই হিমবাহধসের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হতে পারে।
ফলে নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত ঘটানো এই হিমবাহধসের পেছনে অস্বাভাবিক উষ্ণতার ভূমিকা ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au