আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৭ জানুয়ারি- নতুন বছর শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য এসেছে দুঃসংবাদ। স্মার্টফোন থেকে ল্যাপটপ- প্রায় সব ধরনের গ্যাজেটের দাম ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে চলেছে। র্যাম (RAM) সংকটের কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসের মধ্যেই এসব পণ্যের দামে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মূলত বৈশ্বিক র্যাম সংকটই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, র্যামের সরবরাহ এতটাই কমে গেছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে হয় পণ্যের সক্ষমতা কমাবে, নয়তো দাম বাড়াবে। এরই মধ্যেই এই প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। ২০২৬ সালে দিন যত এগোবে, ততই তীব্র হবে সংকট।
বিশ্বের শীর্ষ ল্যাপটপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডেল ও আসুস তাদের ২০২৬ সালের পণ্যের দামে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, সামনে বড় ধরনের মূল্যচাপ আসছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ র্যাম
র্যাম হলো কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের অন্যতম প্রধান উপাদান। কোনো ডিভাইস চালু থাকা অবস্থায় যে তথ্য ব্যবহার করা হয়, তা সাময়িকভাবে র্যামেই সংরক্ষিত থাকে। ফলে র্যাম যত বেশি ও উন্নত হবে, ডিভাইসের পারফরম্যান্সও তত ভালো হবে।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে HBM (High Bandwidth Memory) নামের বিশেষ ধরনের র্যাম নিয়ে। আগে এটি মূলত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিক্স কার্ডে ব্যবহৃত হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে HBM-এর চাহিদা হঠাৎ করেই আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।
AI কোম্পানির দখলে র্যাম বাজার
ChatGPT, Google Gemini-সহ বিভিন্ন AI সিস্টেম পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ HBM প্রয়োজন হয়। অর্থবলিষ্ঠ AI কোম্পানিগুলো র্যাম বাজার কার্যত দখলে নিয়ে নেয়ায় স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ নির্মাতারা প্রয়োজনীয় র্যাম পাচ্ছে না, বা পেলেও অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
বিশ্বে র্যাম উৎপাদন করে মূলত তিনটি প্রতিষ্ঠান- স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন। নতুন সরবরাহ চুক্তিতে তারা এখন বেশি দামে র্যাম বিক্রি করছে, বিশেষ করে AI খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ফোন ও ল্যাপটপের দাম কেন বাড়ছেই
র্যাম নির্মাতারা লাভজনক HBM উৎপাদনে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় সাধারণ DDR ও GDDR র্যামের উৎপাদন কমে গেছে। ফলস্বরূপ, এক বছরের ব্যবধানে এই র্যামের দাম ৩ থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
এর প্রভাব এরই মধ্যেই বাজারে পড়তে শুরু করেছে। উদাহরণ হিসেবে, ওয়ানপ্লাস সম্প্রতি জানিয়েছে, বাড়তি উপাদান খরচের মধ্যেও ওয়ানপ্লাস ১৫-এর দাম ৭২,৯৯৯ রুপিতে সীমিত রাখা তাদের জন্য বড় অর্জন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এই দামও ২০২৬ সালে কম মনে হতে পারে।
ডেল ও আসুসের ঘোষণায় ইঙ্গিত স্পষ্ট
ডেল জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তাদের ল্যাপটপের দাম ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে আসুস আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের অস্থিরতা এবং র্যাম সংকটের কারণেই তারা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে পণ্যের দাম সমন্বয় করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেল ও আসুসের পথ ধরে লেনোভো, এসারসহ অন্যান্য নির্মাতারাও শিগগিরই দাম বাড়াবে। অ্যাপল তুলনামূলকভাবে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সুবিধা পেলেও, শেষ পর্যন্ত তাদেরও ম্যাকবুকের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এখনই কি কেনা উচিত?
যাদের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ জরুরি প্রয়োজন, তাদের জন্য এখনই কেনা তুলনামূলকভাবে ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। কারণ ২০২৬ সালজুড়েই দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া আগামী বছরে ছাড় বা বিশেষ অফারও কমে যেতে পারে। ফলে ক্রেতাদের সামনে তখন দুটি পথই খোলা থাকবে—
বেশি দাম দিয়ে ডিভাইস কেনা, অথবা কম র্যাম ও স্টোরেজে সন্তুষ্ট থাকা।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au