জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি এএফডির ঐতিহাসিক জয়
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট…
মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি- শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় হাতবোমা তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় নিহত যুবকের হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং যে ঘরে বোমা তৈরি করা হচ্ছিল, সেই ঘরের চাল উড়ে যায়। পরে লাশ ঘটনাস্থলের পাশের একটি পেঁয়াজ ক্ষেতে নিয়ে রেখে পালিয়ে যায় সহযোগীরা।
বৃহস্পতিবার ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ জানান, নিহত যুবকের নাম সোহান বেপারী (৩২)। তিনি ওই এলাকার দেলোয়ার হোসেন বেপারীর ছেলে। আহত চারজনকে গোপনে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে, তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিলাসপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে আগেও একাধিকবার দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরে কুদ্দুস বেপারীর চাচাতো ভাই সাগর বেপারীর সদ্য নির্মিত বসতঘরে কয়েকজন জড়ো হয়ে হাতবোমা তৈরি করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সোহান বেপারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বিস্ফোরণের পর অন্যরা তাকে মৃত অবস্থায় পাশের পেঁয়াজ ক্ষেতে নিয়ে রেখে পালিয়ে যান।
ঘরটির মালিক সাগর বেপারীর স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, তার স্বামী ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং মানুষের সহযোগিতায় নতুন ঘরটি নির্মাণ করেছিলেন। এখনও সেখানে বসবাস শুরু করা হয়নি। ভোরে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরে জানতে পারেন নতুন ঘরেই বিস্ফোরণ হয়েছে। তিনি বলেন, রাতে কে বা কারা সেখানে ছিল, সে বিষয়ে তারা কিছু জানতেন না।
এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভও দেখা গেছে। স্থানীয় সাজেদা বেগম বলেন, এলাকায় আগেও মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ছিল। এক বছর কিছুটা শান্ত থাকলেও এখন আবার অস্থিরতা শুরু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকাটি বোমা তৈরির জন্য পরিচিত হলেও পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ে না। আরেক বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, প্রথমে তিনি বিস্ফোরণকে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ভেবেছিলেন। পরে বাইরে এসে ধোঁয়া ও কয়েকজনকে দৌড়ে পালাতে দেখেন। একজনের লাশ টেনে পেঁয়াজ ক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও তিনি প্রত্যক্ষ করেন।
পুলিশ জানায়, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণে ঘরটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আশপাশের এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভীর হাসান বলেন, আহতরা কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au