আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১০ জানুয়ারি- ইরানের রাজধানী তেহরান ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদসহ বিভিন্ন নগরে টানা তীব্র বিক্ষোভ চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে কেন্দ্রীয় স্কয়ার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বড় জনসমাগম, অগ্নিসংযোগ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির চিত্র দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়াকড়ি এবং পরিস্থিতি ক্রমেই আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। রাজধানীর বাইরে থেকেও একাধিক শহরে বিক্ষোভের খবর মিলছে।
তবে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভের প্রকৃত বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইরান কার্যত বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় বাইরে আসা অল্প কিছু ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অ্যাক্টিভিস্টদের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সা’দাত আবাদ এলাকায় বড় জনসমাবেশ দেখা যায়। ভিডিওতে পেছন থেকে একটি কণ্ঠে জানানো হয়, সেখানে একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে। ফুটেজে রাস্তায় জ্বলন্ত আগুন, বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের দৃশ্য ধরা পড়ে। আরেকটি ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের “ডেথ টু দ্য ডিকটেটর” স্লোগান দিতে শোনা যায়।
রাজধানীর শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা গেছে, তেহরানের প্রধান সড়কগুলোতে প্রতি ১০ মিটার পরপর বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। ছাত্রবিষয়ক নিউজলেটার আমিরকাবির জানায়, এসব বাহিনীর সদস্যদের হাতে কালাশনিকভ অ্যাসল্ট রাইফেল দেখা গেছে। পরিস্থিতি আরও সহিংস রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে তেহরানের মেয়র আলিরেজা সাকানি জানিয়েছেন, গত রাতে সংঘর্ষের সময় ৫০টির বেশি ব্যাংক ও একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ৩০টির বেশি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
মধ্য ইরানের ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের আঞ্চলিক স্টুডিওর প্রবেশপথে আগুন দেওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে মার্কাজি প্রদেশের রাজধানী শাসান্দে গভর্নরের কার্যালয় জ্বলতে দেখা যায় বলে জানানো হয়েছে।
চলমান বিক্ষোভের মধ্যেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে ইরানের নেতৃত্ব। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র তথাকথিত নাশকতাকারীদের কাছে মাথা নত করবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি এই আন্দোলনে প্রভাব বিস্তার করছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভের সূচনা হয় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে অন্তত ৫০টি শহরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে, যার বড় অংশ দেশের পশ্চিমাঞ্চলে।
নরওয়েভভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে। তবে ইরান সরকারের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ২১ জন, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন।
এর মধ্যেই বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘোষণা দিয়েছেন, দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি শিথিলতা দেখানো হবে না।
রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত আরেক ভাষণে আয়াতুল্লাহ খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বলেন, তাঁর হাত হাজারের বেশি ইরানির রক্তে রঞ্জিত। তিনি দাবি করেন, ১৯৭৯ সালের আগের শাহ শাসনের মতোই ট্রাম্প অহংকারী এবং শেষ পর্যন্ত পতনের মুখে পড়বেন।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যায় জড়ায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি আরও বেশি মানুষকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরকারপন্থী হাজারো মানুষের পাল্টা সমাবেশ ও সরকার সমর্থনে স্লোগানের দৃশ্যও প্রচার করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au