দীপু দাস হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি। ২২ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ বিক্ষোভ হয়, ছবি: প্রথম আলো
মেলবোর্ন ১১ জানুয়ারি- দেশে ধারাবাহিক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু হত্যা, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত কয়েক সপ্তাহে দেশে একের পর এক হত্যাকাণ্ড এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার উদ্দেশ্য নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা বলে জনমনে ধারণা তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। অথচ একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ও রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিবৃতিদাতারা মনে করেন, দেশি ও বিদেশি উসকানিদাতা এবং পৃষ্ঠপোষক গোষ্ঠী এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
বিবৃতিতে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘আমরা বিস্ময় ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, হত্যাকাণ্ড ও নাশকতার ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।’ এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি সহিংসতাকে আরও উৎসাহিত করছে বলেও সতর্ক করেন তাঁরা।
নাগরিকেরা চারটি স্পষ্ট দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু হত্যা, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং উসকানিদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকানপাট, মন্দির, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ের নিরাপত্তা জোরদারে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস, যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগী এবং নরসিংদীর শরৎ চক্রবর্তী মণিসহ একাধিক হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাউজানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে দরজা বন্ধ করে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকেও গভীর ক্ষোভের সঙ্গে নিন্দা জানানো হয়।
নাগরিকেরা আরও বলেন, হিন্দুসহ দেশের সব ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুর জীবন ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে অবিলম্বে বিশেষ নির্দেশনা দিতে হবে এবং নিয়মিত কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মূলধারার সব রাজনৈতিক দলকে এসব সহিংসতার বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সুলতানা কামাল, খুশী কবির, রাশেদা কে চৌধূরী, জেড আই খান পান্না, ইফতেখারুজ্জামান, আনু মুহাম্মদ, শাহীন আনাম, ফিরদৌস আজিম, শামসুল হুদা, নুর খান, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়েরসহ বিভিন্ন পেশা ও ক্ষেত্রের মোট ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক।