বাংলাদেশ

‘সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতায় দায়ীদের বিচার করতে ব্যর্থ সরকার’

  • 1:04 am - January 11, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১০১ বার
দীপু দাস হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি। ২২ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ বিক্ষোভ হয়, ছবি: প্রথম আলো

মেলবোর্ন ১১ জানুয়ারি- দেশে ধারাবাহিক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু হত্যা, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত কয়েক সপ্তাহে দেশে একের পর এক হত্যাকাণ্ড এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার উদ্দেশ্য নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা বলে জনমনে ধারণা তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। অথচ একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ও রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিবৃতিদাতারা মনে করেন, দেশি ও বিদেশি উসকানিদাতা এবং পৃষ্ঠপোষক গোষ্ঠী এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

বিবৃতিতে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘আমরা বিস্ময় ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, হত্যাকাণ্ড ও নাশকতার ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।’ এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি সহিংসতাকে আরও উৎসাহিত করছে বলেও সতর্ক করেন তাঁরা।

নাগরিকেরা চারটি স্পষ্ট দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু হত্যা, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং উসকানিদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকানপাট, মন্দির, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ের নিরাপত্তা জোরদারে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস, যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগী এবং নরসিংদীর শরৎ চক্রবর্তী মণিসহ একাধিক হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাউজানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে দরজা বন্ধ করে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকেও গভীর ক্ষোভের সঙ্গে নিন্দা জানানো হয়।

নাগরিকেরা আরও বলেন, হিন্দুসহ দেশের সব ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুর জীবন ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে অবিলম্বে বিশেষ নির্দেশনা দিতে হবে এবং নিয়মিত কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মূলধারার সব রাজনৈতিক দলকে এসব সহিংসতার বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সুলতানা কামাল, খুশী কবির, রাশেদা কে চৌধূরী, জেড আই খান পান্না, ইফতেখারুজ্জামান, আনু মুহাম্মদ, শাহীন আনাম, ফিরদৌস আজিম, শামসুল হুদা, নুর খান, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়েরসহ বিভিন্ন পেশা ও ক্ষেত্রের মোট ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

এই শাখার আরও খবর

এআইচালিত সাইবার হামলায় অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেবা অচল হওয়ার আশঙ্কা

ওটিএন বাংলা: সংস্থাটির ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বার্ষিক সাইবার হুমকি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি সাইবার নিরাপত্তার পরিবেশ বদলে দিচ্ছে। রাষ্ট্রসমর্থিত হ্যাকার ও…

ফ্রান্স ও জার্মানিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, প্যারিসে পেট্রলবোমায় পুলিশ সদস্য দগ্ধ

ওটিএন বাংলা: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈষম্য এবং শিক্ষা ও জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্স ও জার্মানিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে…

ধানক্ষেতের পাশের গর্তে নারী-পুরুষের অর্ধগলিত লাশ

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ধানক্ষেতের পাশের একটি শ্যালো মেশিন ঘরের গর্ত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার…

আতঙ্কে রাতে আত্মীয়দের বাড়িতে থাকছেন মানিক পশারীর মেয়ে ও বোন

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরাসরি কারও কাছ থেকে হুমকি না পেলেও…

আবারও কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘেরাও

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আবারও কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেছে একটি সংগঠন। শনিবার ‘বঙ্গসেনা’ নামের সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে…

এইচএসসিতে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ফেল, ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার কেন?

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au