চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২০ জানুয়ারি- ড. মুহম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) চৌধুরী খালেদ সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে আরোপিত সব শাস্তি ও জরিমানা গোপনে প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা প্রকাশ করেনি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিএসইসির মুখপাত্র মোহাম্মদ আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কমিশনের ইতিহাসে রিভিউ বা পুনর্বিবেচনার নজির খুব বেশি নেই। সে কারণে অতীতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রকাশের রেওয়াজও ছিল না। তবে এখন থেকে রিভিউয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হলে তা প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের এমডি চৌধুরী খালেদ সাইফুল্লাহকে এক কোটি টাকা জরিমানা করে এবং তিন বছরের জন্য পুঁজিবাজারে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করে। একই সঙ্গে গ্রামীণ ক্যাপিটালের পরিচালনা পর্ষদকেও সতর্ক করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের পরপরই তাকে প্রতিষ্ঠানটির এমডি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন চৌধুরী খালেদ সাইফুল্লাহর রিভিউ আবেদন গ্রহণ করে। এরপর ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে আরোপিত সব শাস্তি ও জরিমানা পুরোপুরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। যদিও কমিশন নিয়মিতভাবে শাস্তি ও জরিমানার তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে, এ অব্যাহতির বিষয়টি সেখানে জানানো হয়নি।
বিএসইসির তদন্ত অনুযায়ী, গ্রামীণ ক্যাপিটাল ৮২২ জন গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রায় ৯৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। অভিযোগের মধ্যে ছিল গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহার, অননুমোদিত ব্যয়ের অনুমোদন এবং এমডির স্বার্থের সংঘাত।
তদন্তে আরও উঠে আসে, এমডি হিসেবে অনুমোদন নেওয়ার সময় চৌধুরী খালেদ সাইফুল্লাহ ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের (এনসিআরএল) পরিচালক হিসেবে তার অবস্থানের তথ্য গোপন করেছিলেন। বিএসইসির মতে, একই সঙ্গে একটি ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের এমডি হওয়া সরাসরি স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করে, যা সিকিউরিটিজ আইন ও মার্চেন্ট ব্যাংকার বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এছাড়া এনসিআরএল যে কোম্পানির বন্ড রেটিং দিয়েছিল, সেই কোম্পানির বন্ডে গ্রামীণ ক্যাপিটালের বিনিয়োগ প্রস্তাব উত্থাপনের ঘটনাকেও গুরুতর স্বার্থের সংঘাত হিসেবে চিহ্নিত করে তৎকালীন কমিশন। তদন্ত প্রতিবেদনে এটিকে পেশাগত দায়িত্বহীনতার পরিষ্কার উদাহরণ বলা হয়েছিল।
বিএসইসির পর্যবেক্ষণে আরও দেখা যায়, গ্রামীণ ক্যাপিটাল গ্রাহকদের নামে ব্যবহারের কথা থাকা চারটি ব্যাংক হিসাব বাস্তবে নিজস্ব কাজে ব্যবহার করেছে। এসব হিসাবে গ্রাহকদের নগদ লেনদেনের কোনো সঠিক প্রতিফলন ছিল না। পাশাপাশি গত পাঁচ বছরের আর্থিক বিবরণীতে শেয়ার বিক্রি থেকে অর্জিত মূলধন লাভের হিসাবও সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।
এতসব গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বর্তমান কমিশনের সিদ্ধান্তে শাস্তি পুরোপুরি প্রত্যাহার হওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের রিভিউ আবেদন নাকচ করলেও একমাত্র গ্রামীণ ক্যাপিটালের সাবেক এমডির ক্ষেত্রেই পূর্ণ অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পুঁজিবাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সুত্রঃ ঢাকা স্ট্রিট জার্নাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au