মেলবোর্ন, ২১ জানুয়ারি- ওষুধ ছাড়া দ্রুত ওজন কমানো সহজ বিষয় নয়। এ জন্য প্রয়োজন কঠোর শৃঙ্খলা, ধারাবাহিকতা এবং ধৈর্য। তবে সবকিছুর শুরুটা হয় মানসিক ইচ্ছা দিয়ে। ঠিক এই জায়গাটাতেই বড় পরিবর্তন এনে ফিটনেস ট্রেইনার টার্ন কৌর (Tarn Kaur) পেয়েছেন সাফল্য। মাত্র ৮ মাসে ৩১ কেজি ওজন কমিয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেছেন, নিজের জীবনের কিছু পরিবর্তনের কথা।
ওজন কমাতে কৌরের ব্যক্তিগত ৩ পরিবর্তন
‘সব না হলে, কিছুই হয় না’ এমন মানসিকতা ছাড়তে হয়েছে। টার্ন কৌর জানান, আগে তিনি যখনই ওজন কমানোর চেষ্টা করতেন, তখন একসঙ্গে সবকিছু নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা করতেন। সামান্য ভুল হলেই মনে হতো- সব শেষ। তখন ইচ্ছেমতো খাওয়া শুরু করতেন এবং ওজন কমানোর পুরো চেষ্টা ছেড়ে দিতেন।
পরবর্তীতে তিনি উপলব্ধি করেন, পারফেকশন নয়- ধারাবাহিকতাই আসল চাবিকাঠি। সব পরিকল্পনা সব সময় ঠিকভাবে চলবে না, এটা মেনে নেয়াই তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া বন্ধ
নিজেকে অপছন্দ করার কারণে তিনি দ্রুত ‘পারফেক্ট বডি’ চাইতেন। কিন্তু ‘কুইক ফিক্স’ মানসিকতা তাকে বারবার পিছিয়ে দিচ্ছিল। টার্ন কৌরের মতে, ওজন কমানোর কোনো শর্টকাট নেই। যে প্রক্রিয়া উপভোগ করা যায় না, তা দীর্ঘমেয়াদে টেকে না।
অজুহাত দেওয়া বন্ধ
টার্ন কৌর বলেন, নিজের জীবনের ফলাফলের জন্য দায়ী তিনি নিজেই। ছুটি, বিয়ে, দীর্ঘ ভ্রমণ, সন্তান লালন-পালন বা কাজের চাপ- সব কিছুর মাঝেও তার ক্লায়েন্টরা ওজন কমাতে পেরেছেন। তার ভাষায়,“সময় নেই- এটা আসলে অগ্রাধিকার না দেওয়ার আরেক নাম।”
যে ২০টি খাবার বদল সবচেয়ে কাজে লেগেছে
দুধ-চিনি দেওয়া চা → ব্ল্যাক কফি
প্যাকেটজাত জুস → ইলেক্ট্রোলাইট
রাতে সাদা ভাত → কুইনোয়া/ফুলকপির ভাত
মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন → এয়ার-পপড পপকর্ন
চিজ ক্র্যাকার → ভাজা ছোলা
ক্রিমি পাস্তা → হোল হুইট নুডলস ও পালংশাক সস
চিনিযুক্ত সিরিয়াল → দারচিনি, আপেল ও মধু দেওয়া ওভারনাইট ওটস
চিপস → সবজি স্টিকস ও গ্রিক দই ডিপ
মিল্ক চকলেট → ডার্ক চকলেট
মিষ্টি বিস্কুট → আমন্ড ফ্লাওয়ার কুকি
বিস্কুট → রাইস ক্র্যাকার ও পিনাট বাটার ও মধু
ভাজা স্ন্যাকস → বেকড সবজি চিপস
আইসক্রিম → গ্রিক দই ও ফ্রোজেন বেরি
চিনিযুক্ত সস → ঘরে তৈরি টমেটো/পেস্টো সস
সাদা পাউরুটি → হোলগ্রেইন/সিডেড ব্রেড
সফট ড্রিংক → লেবু দেওয়া স্পার্কলিং পানি
দোকানের মাফিন → ঘরে তৈরি প্রোটিন কলা-ওট মাফিন
চকলেট বার → বাদাম ও ডার্ক চকলেট
ভারী সালাদ ড্রেসিং → অলিভ অয়েল ও বালসামিক ভিনেগার
ফাস্টফুড বার্গার → ঘরে তৈরি টার্কি/ভেজি বার্গার
টার্ন কৌরের ৮টি ‘অদ্ভুত’ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস
লুকিয়ে রাখা খাবার না খাওয়া। চোখের আড়ালে থাকলে লোভ কমে- এই নীতিতেই বিশ্বাসী তিনি।
চুইংগামকে ‘লাইফলাইন’ বানানো। খাওয়ার পর বা ক্রেভিং এলে পুদিনা বা চুইংগাম তার ব্রেনকে থামিয়ে দেয়।
আগেই ট্রিট প্ল্যান করা। খাওয়ার আগে অ্যাপে লগ করে রাখেন- দোষবোধ নয়, নিয়ন্ত্রণই লক্ষ্য।
এটা সত্যিই কি মূল্যবান? মানে কোনো খাবার যদি আনন্দ না দেয়, তিনি সেটি এড়িয়ে যান।
‘আমার পেট ভরে গেছি’ জোরে বলা। এতে মস্তিষ্ক সংকেত পায়- আর না।
রেস্টুরেন্টে ব্রেড ও এক্সট্রা এড়িয়ে চলা। চোখের আড়ালেই রাখেন লোভনীয় খাবার।
ঢিলেঢালা পোশাকের বদলে ফিটেড পোশাক। এতে পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকা সহজ হয়।
যা কাজে আসে না, তা ফেলে দেওয়া। লক্ষ্যের সঙ্গে না মিললে অবশিষ্ট খাবার ফেলে দিতেও দ্বিধা করেন না।
সূত্র: এনডিটিভি