বাংলাদেশ

বিএনপি-জামায়াতের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন: সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে পুরোনো আশঙ্কা আবার সামনে

  • 1:52 pm - January 25, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৩৬ বার

মেলবোর্ন ২৫ জানুয়ারি- বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য পুনরুত্থান ঘিরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, এই দুই দলের রাজনৈতিক জোট বা প্রভাব বাড়ার সময়গুলোতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ভীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে।

সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকড় বাংলাদেশে স্বাধীনতার আগেই প্রোথিত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতা করে। আল-বদর ও আল-শামসের মতো বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে বাঙালি হিন্দুসহ সাধারণ মানুষের ওপর গণহত্যা, গ্রাম ধ্বংস এবং পরিকল্পিত ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। চর ভদ্রাসন ও জাতিভাঙ্গার মতো হত্যাকাণ্ড আজও ইতিহাসের ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ১৯৭০-এর দশকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে জামায়াত আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়। সময়ের সঙ্গে দলটি মূলধারার রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতে সংখ্যালঘু টার্গেটিংয়ের আদর্শিক ভিত্তি গড়ে দেয়।

২০০১ সালে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় আসার পর সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই বছরের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যাপক হামলার খবর প্রকাশ পায়। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, বাড়িঘর ও উপাসনালয় ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে জোটের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। মানবাধিকার সংস্থা ও বিচারিক তদন্তে দেখা যায়, হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয় এবং বহু মানুষ প্রাণ হারায়। সুপ্রিম কোর্টের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বিএনপি-জামায়াতের হাজারো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নির্বাচনের আগের সময়েও সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া এবং ধর্মীয় চাপ প্রয়োগের মতো ঘটনা ঘটেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও ব্যাপক ছিল। এতে অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।

সমালোচকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দর্শনে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমান নাগরিক অধিকারের ধারণা বরাবরই অনুপস্থিত। দলটির বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের গণহত্যায় ভূমিকা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করা এবং অতীতের দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা সংখ্যালঘুদের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। বিএনপির সঙ্গে জোটে গেলে জামায়াত-ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্কগুলো আরও সক্রিয় হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান ধর্ম ও জাতিসত্তা নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করলেও বাস্তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছবি তুলে ধরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জবাবদিহি ও সংস্কার ছাড়া বিএনপি ও জামায়াতের ক্ষমতায় ফেরা অতীতের সহিংসতার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সংখ্যালঘু নেতারা বলছেন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে রাষ্ট্রের স্পষ্ট অবস্থান জরুরি। তাদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করলে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজ কাঠামো আরও দুর্বল হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর, যাতে কোনো রাজনৈতিক শক্তি আর কখনো সংখ্যালঘুদের জীবন ও অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে না পারে।

এই শাখার আরও খবর

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au