মেলবোর্ন, ২৯ জানুয়ারি- বাংলাদেশ থেকে ভারতের কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাহার নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা তৈরি হলেও সরকারকে এ বিষয়ে কোনো নিরাপত্তা–উদ্বেগের কথা জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো স্পষ্ট বার্তা বা সংকেত আছে কি না, তা সরকারও বুঝতে পারছে না।
বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের ফেরত নেওয়া তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, যার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। তাঁর ভাষায়, “নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। তবে সংকেত যে কী, তা একেবারেই বুঝতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যাতে কূটনীতিক বা তাঁদের পরিবার–পরিজনেরা বিপদের মুখে পড়ছেন। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ঘটনার নজিরও নেই। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, হয়তো ভারতীয় পক্ষের নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিবেচনা রয়েছে, অথবা কোনো বার্তা দিতে চাওয়া হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ভারতীয় দূতাবাস আগাম কোনো নিরাপত্তা উদ্বেগ জানায়নি বলেও স্পষ্ট করেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। “তাঁরা যদি তাঁদের পরিবারকে ফেরত নিতে চান, সেটি তাঁদের অধিকার। আমাদের করার মতো কিছু নেই,” বলেন তিনি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন কোনো অস্থিরতা বা সহিংসতার চিত্র দেখা যায়নি, যা অতীতের নির্বাচনকালীন সময়ের তুলনায় বেশি বলে মনে হয়। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমন ধারণারও কোনো ভিত্তি নেই।
ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাহার নিয়ে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা না আসায় বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়ছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য আলাদা কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি।