মিস ওয়ার্ল্ডে তৃতীয় হয়ে সাফল্য মালয়েশিয়াকে উৎসর্গ তানুসিয়ার
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে নিজের সাফল্য মালয়েশিয়ার জনগণকে উৎসর্গ করেছেন দেশটির প্রতিযোগী তানুসিয়া চেট্টি। ভিয়েতনামের ন্যা ট্রাংয়ে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে তৃতীয়…
মেলবোর্ন, ৩০ জানুয়ারি- দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আদালতে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ। কানাডাভিত্তিক বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাইকোর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (ইকসিড) বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাচ্ছে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইকসিডের এই রায় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নৈতিক বিজয়।
২০০৩ সালে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দায়িত্ব পায় নাইকো। তবে কাজের সময় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন সেখানে পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এসব বিস্ফোরণের ফলে দীর্ঘদিন ধরে আগুন জ্বলতে থাকে এবং প্রায় আট বিলিয়ন ঘনফুট মূল্যবান গ্যাস পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের জনপদ, কৃষিজমি ও পরিবেশ।
এই ক্ষতির জন্য পেট্রোবাংলা নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও কোম্পানিটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে গড়ায়। মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, নাইকোর অব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থতার কারণেই টেংরাটিলায় এই বিপর্যয় ঘটেছিল।
ইকসিডের রায় অনুযায়ী, পুড়ে যাওয়া গ্যাসের মূল্য বাবদ নাইকোকে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশগত ও অন্যান্য ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা।
এর আগে ২০১৬ সালে বাপেক্স এই ঘটনায় প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছিল। সেই মামলার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এবার চূড়ান্ত রায় এলো।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাতক পূর্ব ও পশ্চিম এলাকায় দুই থেকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুতের সম্ভাবনা রয়েছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান জানান, এই রায়ের অপেক্ষায়ই তারা ছিলেন এবং ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে কূপ খননের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলে তিনি জানান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au