শাহের মন্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। অল্প আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের কিছু শক্তি এই অঞ্চলে অনুপ্রবেশ বা ‘দখলের’ হুমকি দিয়েছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। চিকেনস নেককে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সুনির্দিষ্ট নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৫ কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্ব শুধু ভারতের জন্য নয়, এর আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গেও সংযুক্ত। এই এলাকায় নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চীনের কাছাকাছি অবস্থান। সম্প্রতি বাংলাদেশের লালমনিরহাটে একটি পুরনো বিমানঘাঁটি চালু হয়েছে, যেখানে চীনের প্রযুক্তিগত সাহায্য রয়েছে। ভারতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে শিলিগুড়ি করিডর ও আশেপাশের এলাকায় উত্তর দিনাজপুর, অসমের ধুবড়ি এবং বিহারের কিষানগঞ্জে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে সীমান্তে এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে এবং রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা সারফেস টু এয়ার মিসাইলও সীমান্তে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিমান ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে সীমান্তে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ বা হুমকি প্রতিহত করা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অমিত শাহের এই বার্তা শুধু বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে নয়, এটি ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংহতি রক্ষার সংকেত হিসেবেও ধরা হচ্ছে। শিলিগুড়ি করিডর ও চিকেনস নেকের নিরাপত্তা এখন কৌশলগত ও সামরিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শাহের বক্তব্য এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা নতুন করে দুই দেশের সীমান্ত সম্পর্ককে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে। তবে রাজনৈতিক ও সামরিক মহলের মতে, উত্তেজনা মোকাবিলায় সতর্ক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।