সাত মাসের শিশু কন্যাকে আছড়ে হত্যার মামলায় বাবা গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় সাত মাস বয়সী শিশুকন্যাকে আছড়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাবা কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন…
মেলবোর্ন, ২৭ মে- চাঁদে স্থায়ী মানবঘাঁটি নির্মাণের উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে নতুন অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটি জানিয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে ভবিষ্যৎ ঘাঁটি নির্মাণের লক্ষ্যে ব্যবহৃত হতে যাওয়া রোবটচালিত যন্ত্র, ড্রোন ও লুনার ল্যান্ডারের নকশা ও প্রযুক্তিগত তথ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে মার্কিন ধনকুবের জেফ বেজোস–এর মালিকানাধীন মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন। পাশাপাশি কাজ করছে অ্যাস্ট্রোবোটিকসহ আরও কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।
চলতি বছরের মার্চে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের “ইগনিশন মুন বেস” প্রকল্প ঘোষণা করে নাসা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরু এলাকায় পারমাণবিক ও সৌরশক্তিচালিত আধা-স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ করতে চায় সংস্থাটি।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেছেন, “এই পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আর কখনো চাঁদ হারাবে না।” বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে উঠলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের পথ অনেক সহজ হবে।
তবে চাঁদ দখলের এই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে চীন। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি চীন তাদের শেনঝৌ-২৩ উৎক্ষেপণ করে নভোচারীদের তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশন–এ পাঠিয়েছে।
নাসার পরিকল্পনা তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ২০২৯ সাল পর্যন্ত রোবোটিক অনুসন্ধান চালানো হবে। এ সময়ে ২৫টি উৎক্ষেপণের মাধ্যমে প্রায় ৪ মেট্রিক টন সরঞ্জাম চাঁদে পাঠানো হবে। এসব যন্ত্র চাঁদের দুর্গম এলাকা অনুসন্ধান, মানচিত্র তৈরি এবং ভবিষ্যৎ অবতরণস্থল নির্ধারণে কাজ করবে।
ব্লু অরিজিন তৈরি করছে ‘এন্ডিউরেন্স’ নামের একটি উন্নত লুনার ল্যান্ডার, যা স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চাঁদে অবতরণ করতে পারবে। অন্যদিকে অ্যাস্ট্রোবোটিকের ‘গ্রিফিন-১’ ল্যান্ডারকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর নোবিলে ক্রেটারে অবতরণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এসব ল্যান্ডারে থাকবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা ও লেজারভিত্তিক অবতরণ প্রযুক্তি, যা রিয়েল টাইমে পৃষ্ঠ বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হবে। এছাড়া ভবিষ্যৎ নভোচারীদের চলাচলের জন্য বিশেষ রোভার যানও পাঠানো হবে।
নাসা জানিয়েছে, পরবর্তী ধাপে চাঁদে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পারমাণবিক ফিশন রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে নভোচারীদের জন্য আধা-স্থায়ী আবাসন গড়ে তোলার কাজও শুরু হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ সেখানে বরফ আকারে জমে থাকা পানির অস্তিত্ব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই পানি ভবিষ্যতে পানীয় জল, অক্সিজেন ও মহাকাশযানের জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ চাঁদে অবতরণ মিশনের মাধ্যমে প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদে পা রাখেন নীল আর্মস্ট্রং ও অ্যাডউইন অলড্রিন। এরপর ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭–এর মাধ্যমে সর্বশেষ মানুষ চাঁদে যায়। তারপর আর কোনো নভোচারীকে চাঁদে পাঠায়নি নাসা।
সূত্র : বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au