২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২ মে- দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে…
মেলবোর্ন,২ ফেব্রুয়ারি– বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে ঢাকার জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে ভারত। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ অর্ধেক করে ৬০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।
আগের অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে ব্যয় হয়েছিল মাত্র ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতার প্রভাবই বরাদ্দ ও ব্যয়ের এই ব্যবধানের পেছনে কাজ করেছে। চলতি অর্থবছরে সেই বাস্তবতাকেই বাজেট প্রস্তাবে প্রতিফলিত করা হয়েছে।
ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিল্লির মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে। যদিও ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেয়নি।
একই বাজেটে ভারতের বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার মোট বরাদ্দ ৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে ভুটান, যার ক্ষেত্রে বরাদ্দ ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নেপালের বরাদ্দ বেড়েছে ১৪ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তবে মালদ্বীপের জন্য বরাদ্দ ৮ শতাংশ কমিয়ে ৫৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর ভারতবিরোধী অবস্থান এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগের প্রভাব এই সিদ্ধান্তে পড়েছে।
এবারের বাজেটে আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পে শূন্য বরাদ্দ। আগের অর্থবছরে এই প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল ভারত। চলতি বাজেটে প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের হুমকির কারণেই এই প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে এসেছে দিল্লি।
সব মিলিয়ে ২০২৬–২৭ সালের ভারতীয় বাজেট দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দিল্লির কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে সম্পর্কের উষ্ণতা বা শীতলতার ছাপ সরাসরি অর্থনৈতিক বরাদ্দে প্রতিফলিত হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au