জনতার জবানবন্দি: ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের দুঃশাসনে জাতি যা হারিয়েছিল
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত—৫৪৭ দিন। ইউনূস সরকার এই ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে দুঃশাসন চালিয়েছিল। “সংস্কার” এর নামে…
মেলবোর্ন,৩ ফেব্রুয়ারি- চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। প্রায় তিন বছর পর আবারও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত এই মূল্যায়ন নির্দেশিকা বাস্তবায়নের অনুমোদন দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ২৬ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে যেসব বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকা উভয়ের মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, সেসব বিষয়ে ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং ৫০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে যেসব বিষয়ে কেবল শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান হয়, সেগুলোতে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়নই বহাল থাকবে এবং কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়ন কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব শ্রেণিতে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পরিচালিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিক মূল্যায়ন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ। আর শুধু শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান করা বিষয়গুলোতে ১০০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যকর থাকবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজ উদ্যোগে প্রান্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করবে। কোনো বিদ্যালয় এককভাবে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে না পারলে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে পারবে। পাশাপাশি প্রান্তিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে পাঠ্যপুস্তকের অনুশীলনী থেকে অন্তত ৩০ শতাংশ প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা বাতিল করে শুধু ধারাবাহিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। তবে জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিমার্জনের অংশ হিসেবেই এবার আবার পরীক্ষা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন শাখার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মো. সাফায়েত আলম গণমাধ্যমকে জানান, এনসিসিসির সভায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
এনসিটিবির শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও অ্যাসেসমেন্ট শাখার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মাফরুহা নাজনীন বলেন, সংশোধিত মূল্যায়ন পদ্ধতি চলতি বছর থেকেই কার্যকর হবে। সভার কার্যবিবরণী পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।
তবে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসছে না। আগের মতোই এ স্তরে কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন কার্যক্রম থাকবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au