চাকরি হারালেন ঢাকা উত্তর সিটির 'বিতর্কিত' প্রশাসক এজাজ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ ফেব্রুয়ারি- দূর্নীতির অভিযোগ ও অনুসন্ধানের চাপের মধ্যে চাকরি হারালেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আক্তার জাহানকে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সোমবার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এজাজের মেয়াদ এক দিন পরই শেষ হওয়ার কথা ছিল। তাই নতুন প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সুরাইয়া আক্তার জাহান প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ‘মেয়রের ক্ষমতা’ প্রয়োগ করবেন এবং নিজের বর্তমান পদের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ দায়িত্ব পালন করবেন। বিধি অনুযায়ী এ জন্য তিনি ‘দায়িত্ব ভাতা’ পাবেন।
১৯ অগাস্ট, ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। ওই সময় ঢাকা উত্তর সিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালক মাহমুদুল হাসানকে। এরপর ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজকে উত্তর সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এজাজকে দুদকে তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি। ফলে গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
আদালতে দুদকের আবেদনে বলা হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধিনস্ত মিরপুর-গাবতলী পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, বোরাক টাওয়ার বা হোটেল শেরাটনের ভাগ, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দ, সিটি করপোরেশনের ভ্যান সার্ভিস, ফুটপাতে দোকান বরাদ্দসহ অন্যান্য নানা বিষয়ে এজাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।