২২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে আর্জেন্টাইন ফুটবলার লাউতারো ফাজিওলি
মেলবোর্ন, ২১ জুন- বিশ্বজুড়ে যখন ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মগ্ন ফুটবলপ্রেমীরা, ঠিক তখনই আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্ট্রোকের সঙ্গে প্রায় ২০ দিনের…
মেলবোর্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু ঢাকার রাজনীতিতেই নয়, প্রভাব ফেলেছে আঞ্চলিক সমীকরণেও। জামায়াতের পরাজয় পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপির দীর্ঘদিনের মেরুকরণ কৌশলের একটি বড় ভিত্তিকে দুর্বল করেছে। একই সঙ্গে দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনাও সামনে এনেছে।
গণনা শুরুর পর থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বিএনপি নেতারা। জেলা পর্যায়ের ফল ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সনদ মিলিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ের ইঙ্গিত পাচ্ছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত ফলাফল সেই মূল্যায়নকেই সত্য প্রমাণ করে। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে বিএনপি পেয়েছে ২১০টি আসন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন, মিত্র ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনেক দূরে থাকলেও কার্যকর বিরোধী শক্তি হিসেবে অবস্থান নেওয়ার মতো উপস্থিতি রয়েছে তাদের।
একসময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছে জামায়াত। এবার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা অভিযোগ করেছে, বিএনপি রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে কারচুপি করেছে। নিজেদের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত প্রতিনিধি দাবি করে জামায়াত বলছে, বিএনপি এক ধরনের স্বৈরশাসনের জায়গায় আরেকটি বসিয়েছে।
তবে ভোটের ফল ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটারের দেশে ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ ভোটার অংশ নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নারী ভোটার, প্রথমবারের ভোটার এবং তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ জামায়াতের ইসলামপন্থী অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। প্রায় ৫০ লাখ ছিলেন প্রথমবারের ভোটার। নারী প্রার্থী না দেওয়া এবং নারীদের ঘরে থাকার বিষয়ে বক্তব্য জামায়াতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা আওয়ামী লীগকেও পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক বলা যাচ্ছে না। প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার অংশ নেননি। অনেক ব্যালটে ‘নো বোট, নো ভোট’ লেখা ছিল, যা দলটির প্রতীক নৌকার প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনো তরল।
এ নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত ওই সনদ ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের পর প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। প্রায় ৮৪টি কাঠামোগত ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং অনুচ্ছেদ ৭০ সংশোধন।
বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক রূপান্তর ভারতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। অতীতে বিএনপির সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক উষ্ণ ছিল না। তবু ইসলামপন্থী বয়ানের প্রত্যাখ্যান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার পুনরুজ্জীবন দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
দিল্লিতে বাংলাদেশকে ঘিরে দুটি দৃষ্টিভঙ্গি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। একদল বিশ্লেষক জামায়াতকে পাকিস্তানঘনিষ্ঠ শক্তি হিসেবে তুলে ধরে সম্ভাব্য ইসলামপন্থী উত্থানের আশঙ্কা দেখিয়েছেন। এই বয়ান পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির জন্য সহায়ক ছিল। জামায়াতের পরাজয় সেই রাজনৈতিক যুক্তিকে দুর্বল করেছে।
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং নিরাপত্তা কাঠামোর একটি অংশ ঢাকা সঙ্গে স্থিতিশীল ও বাস্তববাদী সম্পর্ক চায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে সমন্বয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বিভিন্ন ইস্যুতে।
আগামী দিনে পানি বণ্টন, ট্রানজিট, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে আলোচনা জোরদার হতে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও নজরে থাকবে দিল্লির।
প্রধানমন্ত্রী মনোনীত তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের অভিনন্দন বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, দিল্লি পুনরায় সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী। স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপির ক্ষমতায় আগমন দুই প্রতিবেশীর জন্যই নতুন অধ্যায়ের সুযোগ এনে দিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au