১২ বছরের নাতনিকে ধর্ষণ, দাদার যাবজ্জীবন
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে প্রতিবেশী দাদা মোক্তার উদ্দিনকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা…
মেলবোর্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারি- আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবির হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। রোববার বিকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে তার মরদেহ ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। মরদেহ পৌঁছালে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। বহু মানুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন।
বাদ জোহর তার প্রতিষ্ঠিত টুঙ্গিপাড়া খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। পরে সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান, শেখ কবিরের ভাই শেখ নাদির হোসেন লিপু, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
শেখ কবির হোসেন ১৯৪২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন এবং মা রাহেলা খাতুন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার আপন চাচাত ভাই ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও সোনালী ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বীমা ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন।
২০১১ সালে তিনি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং টানা ১৩ বছর এই দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এছাড়া তিনি সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ছিলেন।
শেখ কবির হোসেন ন্যাশনাল টি কোম্পানি, বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের মধ্য দিয়ে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠকের অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। তার দীর্ঘ কর্মজীবন ও বিভিন্ন খাতে অবদান স্থানীয়দের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au