২২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে আর্জেন্টাইন ফুটবলার লাউতারো ফাজিওলি
মেলবোর্ন, ২১ জুন- বিশ্বজুড়ে যখন ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মগ্ন ফুটবলপ্রেমীরা, ঠিক তখনই আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্ট্রোকের সঙ্গে প্রায় ২০ দিনের…
মেলবোর্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারি- ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ বাজারে বৈশ্বিক তৈরি পোশাকের গড় একক দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। সরবরাহ বৃদ্ধি, দেশভিত্তিক প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়া, ক্রেতাদের মূল্য সংযমী নীতি এবং উচ্চমূল্যের পণ্যের ঘাটতি মিলিয়ে পুরো বাজারেই দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপের বাজারে বৈশ্বিকভাবে ৯০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের তৈরি পোশাক আমদানি হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ২.১০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ১৩.৭৮ শতাংশ। তবে পরিমাণ বাড়লেও গড় একক দাম কমেছে ১০.২৭ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারে বেশি পোশাক ঢুকেছে, কিন্তু প্রতি ইউনিটের দাম কমে গেছে।
বাংলাদেশ: রপ্তানি বেড়েছে, দাম কমেছে
নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ ইইউ বাজারে অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালে ইইউ জোনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরোতে, যা ২০২৪ সালের ১৮.৩২ বিলিয়ন ইউরোর তুলনায় ৫.৯৭ শতাংশ বেশি।
এই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ১০.২০ শতাংশ। তবে আয়ের প্রবৃদ্ধি সেই হারে হয়নি। কারণ, গড় একক দাম কমেছে ৩.৮৪ শতাংশ। ফলে পরিমাণ বাড়লেও মূল্য সংযোজনের জায়গায় দুর্বলতা রয়ে গেছে।
বিশেষ করে ডিসেম্বর ২০২৫-এ পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। ওই মাসে আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি মূল্য ১২.০৫ শতাংশ কমেছে এবং একক দাম কমেছে ১১.৫০ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, রপ্তানি ক্রমেই ভলিউমনির্ভর হয়ে পড়ছে। কমদামের পণ্যের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় বাজারে টিকে থাকা গেলেও মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হচ্ছে।
কিছু দেশ তুলনামূলকভাবে উচ্চমূল্যের অর্ডার ধরে রাখতে পেরেছে। এর মধ্যে ভিয়েতনাম উল্লেখযোগ্য। ভিয়েতনামের রপ্তানি ৯.৬৬ শতাংশ বেড়েছে এবং একক দাম বেড়েছে ৪.৫১ শতাংশ। তুরস্কে একক দাম বেড়েছে ৪.০৭ শতাংশ এবং মরক্কোয় ৩.৩৮ শতাংশ।
অন্যদিকে বেশিরভাগ প্রতিযোগী দেশই রপ্তানি বাড়ালেও একক মূল্য হারিয়েছে। চীনের রপ্তানি বেড়েছে ১.১৭ শতাংশ, রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ১১.৬৪ শতাংশ, কিন্তু একক দাম কমেছে ৯.৩৮ শতাংশ। ভারতের রপ্তানি বেড়েছে ৭.৯৯ শতাংশ, একক দাম কমেছে ৪.৯৬ শতাংশ। পাকিস্তান ৯.৬৪ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধির বিপরীতে ২.১৯ শতাংশ একক মূল্য হারিয়েছে। কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ১৪.৬৬ শতাংশ, তবে একক মূল্য কমেছে ৮.৫৮ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কাও একই প্রবণতা দেখিয়েছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, চীন থেকে সরে আসা উচ্চমূল্যের অর্ডার ভিয়েতনাম নিতে পারছে। ধীরে ধীরে তারা চীনের বিকল্প হিসেবে দাঁড়াচ্ছে। বাংলাদেশের প্রস্তুতি থাকলে ইইউ বাজারে সেই সুযোগ নেওয়া যেত।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি-এর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, উচ্চমূল্যের পোশাকের ক্রেতা ধরতে বাংলাদেশের সক্ষমতা এখনও সীমিত। উৎপাদন ব্যয়, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও অন্যান্য চাপের কারণে পরিমাণ বাড়লেও সেই অনুপাতে আয় বাড়ানো যাচ্ছে না।
সংগঠনটির সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাজার অংশীদারত্ব ধরে রাখতে পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হলেও একক মূল্য কমে যাওয়ায় রপ্তানি আয়ে চাপ তৈরি হচ্ছে। বছরের শেষভাগের নিম্নমুখী প্রবণতা শিল্পের জন্য সতর্কবার্তা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইইউ ও ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার বৈচিত্র্য না বাড়ালে বাংলাদেশ ভলিউমের বাজারে টিকে থাকলেও ভ্যালুভিত্তিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au