শেখ হাসিনা কি আবারও বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন?
গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পূর্ণ হওয়ার দিন, গত ৫ আগস্ট ভারত থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ঘোষণা করেন, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরবেন। তাঁর…
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কো সদরদপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বহুভাষাবাদ প্রসারে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, মন্ত্রী, ভাষাবিদ ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
সংস্থাটির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ড. খালেদ এল এনানি বলেন, শিক্ষাজীবনই তরুণ প্রজন্মের মাতৃভাষা ও বহুভাষাবাদ চর্চার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এবং অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাতৃভাষা সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলায় বক্তব্য প্রদানকারী বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহাকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি, নির্বাহী পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং মহাপরিচালক একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের মতে, এটি অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব ও বৈশ্বিক বার্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে ইউনেস্কোর কার্যক্রম বিশ্বের মানুষের কাছে তাদের নিজ নিজ ভাষায় পৌঁছানো জরুরি। তিনি মাতৃভাষা সংরক্ষণে শক্তিশালী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তরুণ প্রজন্মকে আরও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
নির্বাহী পর্ষদের সভাপতি ও কাতারের রাষ্ট্রদূত নাসের হিনজাব বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং এবারের আয়োজনের জন্য দেশটিকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে ভাষার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় তানজানিয়ার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী, পূর্ব তিমুরের শিক্ষামন্ত্রী, দক্ষিণ আমেরিকার ইনকা সম্প্রদায়ের কেচুয়া ভাষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। স্পেনের ভাষা গবেষক প্রফেসর ড্যামিয়েন ব্লাসি মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ মাতৃভাষায় বক্তব্যের অংশ তুলে ধরেন, যা আয়োজনকে বহুভাষিক বৈশ্বিক পরিসরে রূপ দেয়।
দিনের শেষভাগে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিবেশিত লোকসংগীত উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি লুক্সেমবুর্গ, আজারবাইজান, মলদোভা, ইউক্রেন, শ্রীলঙ্কা ও ব্রাজিলের প্রতিনিধিরাও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। প্যারিসভিত্তিক একটি বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত ছিল।
প্রায় দুই শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মতে, মাতৃভাষা সংরক্ষণে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে স্বীকৃতি পেয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au