তাজুল ইসলাম , ছবি-সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে বিদায়ের দিনেই মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। তবে অভিযোগগুলো সরাসরি নাকচ করে সেগুলোকে ‘মিথ্যা’ ও ‘ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ বলে দাবি করেছেন তাজুল ইসলাম।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ নামের একটি আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে মন্তব্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, চিফ প্রসিকিউটরের পদকে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং একটি সিন্ডিকেট ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব রেখেছে।
একটি মন্তব্যে তিনি দাবি করেন, আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলার আসামি শেখ আবজালুল হকের স্ত্রী একদিন ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের কক্ষে প্রবেশ করেন। বিষয়টি তিনি তাজুল ইসলামকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। পরবর্তী সময়ে ওই মামলায় শেখ আবজালুল হককে রাজসাক্ষী করা হয় এবং রায়ে তাঁকে ক্ষমা করা হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি দেওয়া হয়। রায়ে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলায় সাবেক উপপরিদর্শক শেখ আবজালুল হক রাজসাক্ষী হিসেবে দায়মুক্তি পান।
এ ছাড়া চানখাঁরপুলের একটি মামলায় গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সুলতান মাহমুদ। তাঁর দাবি, এ–সংক্রান্ত ভিডিও তাঁর কাছে রয়েছে। রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় একজন কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে রাজসাক্ষী করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কেউ ক্ষোভ থেকে অভিযোগ করতেই পারেন, কিন্তু সেগুলো আমলে নেওয়ার মতো নয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো আগে তদন্ত করে দেখা হয়েছে এবং সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর দাবি, ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ এবং আদালতের মাধ্যমেই সব প্রমাণিত হয়েছে।
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে মো. আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে প্রথম দিনেই মন্তব্য করতে চান না। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো বিষয় সামনে এলে তখন তা দেখা হবে বলে জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটরের বিদায়ের দিনেই ওঠা এসব অভিযোগ ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে অবস্থান স্পষ্টভাবে ভিন্ন, বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের ঘোষণা এখনো আসেনি।