বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে ইরান যুদ্ধ: ১৫তম দিনে কী ঘটছে?
মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েলের সংঘাত এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল ও বৃহত্তর আকার ধারণ করেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুরু…
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- বোরো মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকরা বীজ, সার ও সেচের ওপর নির্ভরশীল। এই সময় সারের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। খুলনার কয়রার গাতিঘেরি গ্রামের কৃষক দেবাশীষ মণ্ডল আট বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করছেন। মৌসুমের শুরুতে সরকার নির্ধারিত দামে সার কিনতে পেরেছেন, কিন্তু মাঝামাঝি সময়ে ইউরিয়া সার কেজিপ্রতি ৩–৬ টাকা বেশি, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার কেজিপ্রতি ৮–১০ টাকা বেশি কিনতে হচ্ছে। শ্রমিক ও সেচ খরচ বৃদ্ধির কারণে তিনি এবার লোকসানের শঙ্কায় আছেন।
সরকারি হিসাবে সারের সংকট নেই। বিএডিসি জানিয়েছে, গুদামে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। ইউরিয়ার সরকারি দাম ২৭ টাকা কেজি, তবে মাঠে ২–৫ টাকা বেশি। ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির ক্ষেত্রেও কৃষককে কেজিপ্রতি ৩–১৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।
কৃষক অভিযোগ করেছেন, পরিবহন ঠিকাদার ও ডিলারের একটি চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দাম আদায় করছে। একই ব্যক্তি বা তার পরিবারের নামে একাধিক ডিলারশিপ নিয়েও বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আছে।
সরকার ‘সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ-সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯’ সংশোধন করেছে, তবে মাঠ পর্যায়ে নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয়। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ডিলারদের কাছে সার মজুত থাকলেও প্রান্তিক চাষিকে সরবরাহ হচ্ছে না।
চুয়াডাঙ্গা, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, যশোর ও বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় সরকারি সারের দাম থেকে খুচরায় ২০০–৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। একই অঞ্চলের মধ্যে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে সারদরের তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, কয়রার হরিকাটি গ্রামের কৃষক সুশান্ত মণ্ডল একই ধরনের ইউরিয়া সার কিনেছেন ৩৬ টাকা কেজি দরে, আর ৪ কিলোমিটার দূরে একই সার ৩৩ টাকায় মিলেছে।
এছাড়া, রাজশাহীর বাগমারা, তানোর ও চারঘাটে এক বস্তা টিএসপি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সরকারি দাম ১ হাজার ৫০ টাকা। বগুড়ায় টিএসপি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০–১ হাজার ৬৫০ টাকায়।
সারের অতিরিক্ত দাম ও খরচ বৃদ্ধির কারণে কৃষক ধানের আবাদ কমাতে পারেন। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ধানের আবাদ কমলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। কিছু কৃষক ভুট্টা ও অন্যান্য বিকল্প ফসলে ঝুঁকছেন কারণ সেখানে বাজারদর তুলনামূলক স্থিতিশীল।
কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Sultan Salauddin Tuku জানান, বেশি দামে সার বিক্রির প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার কৃষকের স্বার্থ রক্ষা ও ভালো ফলনের জন্য মাঠ পর্যায়ে কার্যকর তদারকি জোরদার করবে।
সুত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au