‘ভারতীয় বোর্ড আইসিসিকে নিয়ন্ত্রণ করে’
মেলবোর্ন,৬ মে- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সাইমন হারমার। তার দাবি, বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক…
মেলবোর্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি- পঞ্চগড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য ও মেসেঞ্জারে কথোপকথনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে ‘জনরোষ’ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় দুই পক্ষই মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জেলায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজনের একটি দল এক যুবককে ঘিরে স্লোগান দিচ্ছে এবং উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে। পরে পুলিশ এসে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।
ফজলে রাব্বী পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের হালুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পঞ্চগড় জেলা ছাত্রশিবিরের ছাত্র অধিকার সম্পাদক। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পঞ্চগড় জেলার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেসবুকে একটি পোস্টে মন্তব্য এবং পরে মেসেঞ্জারে বাগ্বিতণ্ডার জেরে উত্তেজনার সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী আব্দুর রউফ ও তাঁর ছোট ভাই মো. রব্বানীর সঙ্গে ফজলে রাব্বীর বিরোধ তৈরি হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ফজলে রাব্বী হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায় আব্দুর রউফের বাড়ির পাশের সড়কে অবস্থান নেন। তিনি সেখানে ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, ‘আব্দুর রউফের ভাই আমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়েছে, আমি তার বাসার সামনে এসেছি। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না।’ লাইভে তিনি প্রশাসনের সমালোচনাও করেন এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন নিয়ে অভিযোগ তোলেন।
ফেসবুক লাইভ চলাকালে ধীরে ধীরে সেখানে স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতা-কর্মীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে ফজলে রাব্বীর সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যান নিরাপত্তার জন্য। এ সময় উপস্থিত লোকজন অভিযোগ তোলেন, তিনি পরিকল্পিতভাবে সেখানে গিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করেছেন। তাঁকে ঘিরে স্লোগানও দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফজলে রাব্বীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে। রাতে রব্বানীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি এজাহার খসড়া আনা হলেও পরে তা সংশোধনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক মামলা করেনি।
ফজলে রাব্বী দাবি করেন, বইমেলার কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পর মো. রব্বানী নামের একটি আইডি থেকে তাঁকে কামারপাড়ায় যেতে বলা হয়। পরে মেসেঞ্জারে কল দিয়ে ইফতারের পর সেখানে যেতে বলা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণেই তিনি সেখানে যান এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান। তিনি এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে আব্দুর রউফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় মতভেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাদা–ছোড়াছুড়ি চলছে। তাঁর অভিযোগ, ফজলে রাব্বী একাধিকবার তাঁকে হেয় করে ছবি ব্যবহার করে পোস্ট করেছেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং উভয় পক্ষ থেকেই হুমকির ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ফজলে রাব্বী বাড়ির সামনে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এসে তাঁকে নিয়ে যায়। তাঁরাও মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক বিরোধ যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটায়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দুই পক্ষের অভিযোগ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au