শিয়া মুসলমানরা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির জন্য শোক প্রকাশ করছেন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩ মার্চ- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। একই হামলায় তাঁর স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহও নিহত হয়েছেন।
খামেনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শোক পালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ধাপে ধাপে দাফনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
তেহরানের কেন্দ্রস্থল এঙ্গেলাব স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনেকেই কালো পোশাক পরে উপস্থিত হন, কারও হাতে ছিল ইরানের পতাকা, কারও হাতে খামেনির ছবি। শোকার্তদের অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরের ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হোসেইন দাদবাখশ বলেন, “ইরান ইমামের হত্যার প্রতিশোধ নেবে। আমি ইসলাম ও ইমাম খামেনির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।”
কেন্দ্রীয় শহর শিরাজ–এর স্কুলশিক্ষিকা আতৌসা মির্জাদে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বিদেশি শক্তির হাতে সর্বোচ্চ নেতার নিহত হওয়ার খবরে তিনি শোকাহত। তাঁর আশঙ্কা, দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মগুরুকে ইতিহাসের অন্যতম খারাপ ব্যক্তি হিসেবে মন্তব্য করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস এক বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল টু জানিয়েছে, নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হয়ে মানসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ নিহত হন। এর আগে কিছু গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, তিনি কোমায় আছেন। হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি ও জামাতাও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। খামেনি দম্পতির ছয় সন্তান ছিল, চার ছেলে ও দুই মেয়ে।
চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। দাফন ও শোকানুষ্ঠান ঘিরে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।