নেপালে প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- নেপালে সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে…
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এখন শুধু গোলাবারুদ বা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ ব্যবহার করে জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এক ধরনের ‘অদৃশ্য যুদ্ধ’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জিপিএস জ্যামিং জাহাজ ও বিমানের নেভিগেশন ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।
সামুদ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ড–এর সিনিয়র মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স বিশ্লেষক মিশেল ওয়াইজ বকম্যান সম্প্রতি ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের আশপাশের সমুদ্র এলাকায় জাহাজের লাইভ অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেন।
তার ভাষায়, মানচিত্রে তিনি “৩৫টিরও বেশি অদ্ভুত ক্লাস্টার” দেখতে পান। মানচিত্রে অসংখ্য জাহাজের আইকন গোলাকারভাবে গুচ্ছ আকারে দেখা যাচ্ছিল, যা বাস্তবে সম্ভব নয়। কিছু ক্ষেত্রে জাহাজগুলোর অবস্থান স্থলভাগের ওপরেও দেখাচ্ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জিপিএস সিগন্যালের ওপর ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপের ফল। এতে জাহাজের প্রকৃত অবস্থান আড়াল হয়ে যায় এবং নেভিগেশন ব্যবস্থায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
এই জ্যামিং বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। কারণ, জাহাজগুলো আশপাশের অবস্থান জানার জন্য অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ব্যবহার করে।
প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ একটি তেলবাহী ট্যাংকার দিক পরিবর্তন করতে বা থামতে অনেক সময় নেয়। ফলে আশপাশের জাহাজের সঠিক অবস্থান জানা না থাকলে সংঘর্ষের ঝুঁকি বেড়ে যায়, বিশেষ করে রাত বা খারাপ আবহাওয়ায়।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাররে–এর সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অ্যালান উডওয়ার্ড বলেন, “সমস্যা হলো আপনি কোথায় যাচ্ছেন তা জানা নয়, বরং অন্য জাহাজগুলো কোথায় যাচ্ছে তা না জানা।”
এই জ্যামিংয়ের পেছনে কে রয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে অনেক সামরিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এর সঙ্গে ইরানের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তাদের মতে, ইরান নিজস্ব প্রযুক্তি অথবা রাশিয়া ও চীন থেকে পাওয়া সরঞ্জাম ব্যবহার করে জিপিএস জ্যামিং করতে সক্ষম।
অন্যদিকে বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীও নিজেদের ঘাঁটি ও জাহাজকে ড্রোন বা জিপিএসনির্ভর অস্ত্র থেকে সুরক্ষা দিতে জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেফার.এক্সওয়াইজেড–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা সীন গরম্যান স্যাটেলাইট রাডার ডেটা ব্যবহার করে জিপিএস জ্যামিং শনাক্তের নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন।
২০২৪ সালে তিনি ইউক্রেনে গবেষণার সময় ড্রোনে স্মার্টফোন বেঁধে জিপিএস ডেটা সংগ্রহ করেছিলেন। পরে সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে জ্যামিং ডিভাইসের সম্ভাব্য অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
জিপিএস জ্যামিং মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিকল্প প্রযুক্তি তৈরি করছে। প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রেইথিয়ন ইউকে ‘ল্যান্ডশিল্ড’ নামে একটি অ্যান্টি-জ্যাম অ্যান্টেনা সিস্টেম তৈরি করেছে, যা গাড়ি থেকে বিমান পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহনে ব্যবহার করা যায়।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড ন্যাভিগেশন এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা জিপিএস ছাড়াও জাইরোস্কোপ, অ্যাক্সিলারোমিটার, স্যাটেলাইট ছবি এবং আকাশের তারার অবস্থান বিশ্লেষণ করে অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান জিপিএস সিগন্যাল তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় এটি সহজেই জ্যাম করা যায়। তবে সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে এম-কোড জিপিএস নামে একটি এনক্রিপ্টেড ও নিরাপদ সংস্করণ ব্যবহার করছে, যা জ্যামিংয়ের বিরুদ্ধে বেশি প্রতিরোধী।
রয়েল ইনস্টিটিউট অব ন্যাভিগেশন–এর পরিচালক র্যামসি ফারাঘার মনে করেন, ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ নেভিগেশন প্রযুক্তি চালু হবে।
তার মতে, “একদিন আমরা এই সময়ের দিকে ফিরে তাকিয়ে ভাবব, খোলা জিপিএস সিগন্যালের ওপর এত নির্ভর করা সত্যিই বুদ্ধিমানের কাজ ছিল না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তিগত অদৃশ্য যুদ্ধ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিমান চলাচল এবং সমুদ্র নিরাপত্তার ওপর আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au