ঈদের পরই নতুন সরকারের সামনে যে বড় তিন চ্যালেঞ্জ, ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ মার্চ- সদ্য গঠিত নতুন সরকারের সামনে ঈদের পরই একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকারকে একসঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে কাজ করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা—এই তিনটিই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। সামনে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতে সেচ ও সারের জন্য জ্বালানির প্রয়োজন বাড়বে—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, বিকল্প উৎস অনুসন্ধান, সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি খাতের চাপ সরাসরি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে সব পণ্যের মূল্যই প্রভাবিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
ঈদের পর আসন্ন জাতীয় বাজেটও সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নে কী ধরনের বরাদ্দ রাখা হয়, সেদিকে নজর থাকবে সাধারণ মানুষের।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং বিরোধী দলের আন্দোলন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থাকায় সরকারকে চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিচারপ্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠবে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে এবং ঈদের পর তা আরও গতিশীল হবে।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপের এই সময়ে নতুন সরকারের জন্য কার্যকর নীতি গ্রহণ এবং দ্রুত বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।