শেরপুর-৩ আসনেও বড় ব্যবধানে জিতলেন বিএনপি প্রার্থী
মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল- শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে শেরপুর জেলা…
মেলবোর্ন, ৯ এপ্রিল- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্প নির্দেশক ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিল্পীর মৃত্যুর বিষয়টি চ্যানেল ২৪ অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন তার পারিবারিক বন্ধু ও সাংবাদিক প্রিসিলা রাজ। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে জটিল এজমা এবং হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে ভুগছিলেন তরুণ ঘোষ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৩ বছর।
তরুণ ঘোষের জন্ম ১৯৫৩ সালের নভেম্বরে রাজবাড়ী জেলায়। ১৯৭৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট (বর্তমান চারুকলা অনুষদ) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ভারতের বরোদার এম এস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তরুণ ঘোষ ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। ১৯৭৯ সালে তিনি রাজশাহী আর্ট কলেজে প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে কলেজটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের বরোদা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ফোক পেইন্টিং রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন প্রোগ্রাম’-এ কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১২ সালে ‘কীপার’ পদ থেকে অবসর নেন। চাকরি জীবনের পাশাপাশি তরুণ ঘোষ স্বাধীনভাবে চিত্রকর্ম সৃষ্টির কাজ করে গেছেন।
চিত্রকলার পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রের শিল্প নির্দেশনায়ও অনন্য অবদান রেখেছেন। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় আবু সাইয়েদের চলচ্চিত্র ‘কিত্তনখোলা’-র জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নরসুন্দর’ এবং এন রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতী কথা’-সহ একাধিক চলচ্চিত্রে শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি এন রাশেদ চৌধুরীর মুক্তি প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সখী রঙ্গমালা’-তেও শিল্প নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেন।
চিত্রকর্মের ক্ষেত্রে তরুণ ঘোষ বাংলার লোকঐতিহ্য, মিথ ও ইতিহাসকে আধুনিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। তার বিখ্যাত ‘বেহুলা’ সিরিজ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং এশিয়ান আর্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশাল ক্যানভাস সিরিজ, পাখি, প্রকৃতি, প্রতিকৃতি ও ব্যক্তিগত অনুভূতির নানা দিক চিত্রকর্মে ফুটিয়ে তুলেছেন।
তরুণ ঘোষ একমাত্র সন্তান মিথ এবং স্ত্রী মিথুন বিশ্বাসকে রেখে গেছেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের চিত্রকলার জগত ও চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। শিল্পপন্থীরা তাকে একজন দৃষ্টান্তমূলক শিল্পী ও শিক্ষাবিদ হিসেবে স্মরণ রাখবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au