ভারতে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম
মেলবোর্ন, ১৩ মে- ভারতে স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর দেশটির বাজারে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।…
মেলবোর্ন, ১৩ মে- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তান এবার নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সামরিক উড়োজাহাজ পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে ইসলামাবাদ এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে জানিয়েছে, এটি বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতির কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান একাধিক উড়োজাহাজ পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নূর খান বিমানঘাঁটিতে পাঠায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসব উড়োজাহাজের মধ্যে ইরানি বিমানবাহিনীর একটি আরসি-১৩০ নজরদারি উড়োজাহাজও ছিল, যা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ইরান সম্ভাব্য হামলা থেকে নিজেদের সামরিক ও বিমান চলাচল-সম্পর্কিত সম্পদ সুরক্ষায় এ পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে। একই সময়ে কিছু বেসামরিক উড়োজাহাজ আফগানিস্তানেও পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানি উড়োজাহাজ পাকিস্তানে এলেও তা কোনো সামরিক প্রস্তুতি বা গোপন আশ্রয়ের অংশ নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার সময় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদল, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক সদস্যদের যাতায়াত সহজ করতে এসব উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে।
পাকিস্তান আরও দাবি করেছে, তারা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে আঞ্চলিক শান্তি ও সংলাপ এগিয়ে নিতে কাজ করছে। কোনো পক্ষকে সামরিক সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
এক প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নূর খান বিমানঘাঁটি জনবহুল এলাকার কাছে হওয়ায় সেখানে গোপনে বড় সংখ্যক সামরিক উড়োজাহাজ রাখা বাস্তবসম্মত নয়।
এদিকে আফগানিস্তানের কাবুলে ইরানের মাহান এয়ারের একটি উড়োজাহাজ অবতরণের তথ্য নিশ্চিত করলেও তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আফগানিস্তানে ইরানি সামরিক উড়োজাহাজ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ-ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো শর্ত দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অভিযোগ পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে ইসলামাবাদ এখনো দাবি করে যাচ্ছে, তাদের লক্ষ্য কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করা।
সুত্রঃ সিবিএস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au