ভারতে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম
মেলবোর্ন, ১৩ মে- ভারতে স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর দেশটির বাজারে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।…
মেলবোর্ন, ১৩ মে- দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতিতে শত শত শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের একদল আইনজীবী। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে তাদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানানো হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ভাষ্য, সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করা, স্বাস্থ্যখাতে সমন্বয়হীনতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ইতোমধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও দাবি করেন তারা। বক্তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য পরিবার সন্তান হারিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু এ সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিক্ষোভকারীরা হাম পরিস্থিতিকে ‘মহামারির রূপ নেওয়া জনস্বাস্থ্য সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তারা অবিলম্বে স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাংবাদিক আনিস আলমগীর নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলার কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা না করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামজনিত কারণে হয়েছে এবং বাকি ৬ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

হামের চিকিৎসার জন্য ডিএনসিসি হাসপাতালে আনা হয়েছে এক বছরের শিশুকে। ছবিঃ সংগৃহীত
এ নিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৪ জনে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬৮ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৫৬ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে এবং সিলেট বিভাগে দুইজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে নতুন করে ৮৭ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে মোট নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৪ জনে।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ১০৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে দেশে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না পেলে শিশুদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টিসহ নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ড চালু করা হলেও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত স্বাস্থ্য উদ্যোগ গ্রহণ, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au