ভারতে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম
মেলবোর্ন, ১৩ মে- ভারতে স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর দেশটির বাজারে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।…
মেলবোর্ন, ১৩ মে- বাংলাদেশে সামরিক, কূটনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে পাকিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও কার্যক্রম বৃদ্ধির নানা ঘটনা নিয়ে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের বিভিন্ন আয়োজন, সামরিক প্রতিনিধিদলের সফর, শিক্ষাবিষয়ক কর্মসূচি এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নতুন করে নজর কাড়ছে।
গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশান-২ এলাকার একটি কফিশপে পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার মুহাম্মদ ইমরান ইউসুফ চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশের এক সাংবাদিকের বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকের মধ্যস্থতায় ছিলেন শরীয়তপুরের ফরাজি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজী শরীয়তুল্লাহ পরিবারের একজন সদস্যের স্বজন। অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকে সাংবাদিককে পাকিস্তানপন্থী প্রচারমূলক কনটেন্ট তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে পাকিস্তানের কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে দেশটি সক্রিয় উদ্যোগ নিচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী এবং বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত ১০ মে রাজধানীর গুলশানে পাকিস্তান হাইকমিশনে “মারকা-এ-হক” বা “সত্যের যুদ্ধ”-এর প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও চা-আড্ডার আয়োজন ছিল। সেখানে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ছাড়াও হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঢাকায় বসবাসরত পাকিস্তানি নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কয়েকজন সাংবাদিক, সংগঠক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও অংশ নেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ভারতের “অপারেশন সিঁদুর”-এর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অবস্থান এবং তাদের তথাকথিত “বিজয়ের বর্ণনা” তুলে ধরা।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পেছনে ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশের দুই সাবেক সাংবাদিক আশরাফ ও তাহমিনা। কয়েক বছর আগে তারা যৌথভাবে একটি জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ২০২৩ সাল থেকে তারা বাংলাদেশে পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট সময়েও তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এর একদিন পর, ১১ মে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে “পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডর” শিরোনামে “পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপো” আয়োজন করা হয়। সেখানে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০ বৃত্তির ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। যদিও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ বর্তমানে পাকিস্তানের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
এদিকে একই দিনে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় পৌঁছায়। এয়ার ভাইস মার্শাল আওরঙ্গজেব আহমেদের নেতৃত্বে আসা এই প্রতিনিধিদল পাঁচ দিনের সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন ব্যবস্থা স্থাপনে কারিগরি সহায়তা দিতে এসেছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ পাকিস্তানের তৈরি বহুমুখী জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনাও তারা পর্যালোচনা করবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ চীনের চেংদু জে-১০ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই সামরিক সহযোগিতা নিয়ে গত ১১ মে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার ইমরান ইউসুফ চৌধুরী অংশ নেন।
সূত্রগুলো বলছে, সফররত পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের জন্য কড়া গোপনীয়তার মধ্যে বগুড়া, লালমনিরহাটসহ কয়েকটি বিমানঘাঁটি পরিদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাংলাদেশে পাকিস্তান তাদের প্রভাব বিস্তারের নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। কূটনীতি, শিক্ষা, গণমাধ্যম ও সামরিক যোগাযোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। তবে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au