অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় আইএস–সংশ্লিষ্ট নারীদের গ্রেপ্তারে সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে ক্ষোভ

  • 8:42 pm - May 14, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৫ বার
আইএসআইএস-সম্পৃক্ত ১৩ নারী-শিশুর ফেরা নিয়ে সতর্ক অস্ট্রেলিয়া। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৪ মে- জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন অস্ট্রেলীয় নারী দেশে ফেরার পর গ্রেপ্তার হওয়ায় সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। বহু বছর ধরে ওই নারীরা উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত আল রোজ শিবিরে বসবাস করছিলেন।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট আইএসের তথাকথিত ‘খেলাফত’ ধ্বংস করার পর বিদেশি যোদ্ধাদের স্ত্রী ও সন্তানদের বড় একটি অংশকে সিরিয়ার বিভিন্ন শিবিরে রাখা হয়। এরপর থেকে তাদের অনেকেই সেখানেই অবস্থান করছেন।

আল রোজ শিবিরে অবস্থানরত উম শামেল নামের এক নারী বলেন, অস্ট্রেলিয়া সরকার নারীদের গ্রেপ্তার করে ঠিক করেনি। তিনি গ্রেপ্তার হওয়া নারীদের ‘আমাদের বোন’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “নারী ও শিশুদের নিয়ে তারা কী করতে চায়? ছোট ছোট শিশুদের তাদের মায়ের প্রয়োজন।”

গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিমানে করে চার নারী ও নয় শিশু অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও সিডনিতে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তিন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া কাওসার আহমেদ ও জেইনাব আহমেদের বিরুদ্ধে দাস ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া জেইনাব আহমেদের বিরুদ্ধে দাস রাখার এবং দাস ব্যবসার অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

আরেক নারী জানাই সাফারের বিরুদ্ধে ঘোষিত সন্ত্রাসী এলাকায় ভ্রমণ এবং একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আল রোজ শিবিরের প্রশাসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে শিবিরে অবস্থানের কারণে সেখানে থাকা কিছু অস্ট্রেলীয় পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি আরও কঠোর হয়ে উঠেছে। শিবিরটিতে হাজারো মানুষ অস্বাস্থ্যকর ও মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছেন, যাদের অনেকেই বিদেশি নাগরিক।

উম শামেল বলেন, “আমরা খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জীবন কাটাচ্ছি।”

তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তারের খবর টেলিভিশনে দেখার পর সিরিয়ায় থাকা অন্য অস্ট্রেলীয়রা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন অথবা মত পরিবর্তন করতে পারেন।

তিনি বলেন, “তারা আর যাবে না।”

নিজেকে জার্মান নাগরিক দাবি করা উম শামেল বলেন, সাত বছর ধরে সিরিয়ায় থাকার পর তিনিও একদিন দেশে ফিরতে চান। তার ভাষ্য, মুসলিম হলেই কেউ আইএসের উগ্রপন্থী সদস্য হয়ে যায় না।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিশুর বাবা হয় নিহত হয়েছেন অথবা কারাগারে আছেন এবং মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা “স্বাভাবিক নয়”।

বর্তমানে আল রোজ শিবিরে আরও ২১ জন অস্ট্রেলীয় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে সাতজন নারী ও ১৪ জন শিশু রয়েছে।

শিবিরে থাকা অস্ট্রেলীয় নারীদের একজন জানান, অন্যরা কবে বা আদৌ শিবির ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন কি না, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

অতীতে কিছু অস্ট্রেলীয় নারী জানিয়েছেন, তারা আইনি পরামর্শ পেয়েছিলেন যাতে সিরিয়ায় কীভাবে পৌঁছেছেন কিংবা আল রোজের মতো শিবিরে কী অভিজ্ঞতা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত না বলেন।

আল রোজ শিবিরের প্রশাসক হাকমিয়েহ ইব্রাহিম বলেন, বেশিরভাগ অস্ট্রেলীয় পরিবারকে উদার মানসিকতার মনে হলেও “এক বা দুটি পরিবার অন্যদের থেকে ভিন্ন”।

তিনি বলেন, “কিছু পরিবার খুবই বন্ধ প্রকৃতির। তারা উগ্রপন্থী, তাদের চিন্তাধারা বোঝা যায়।”

তার দাবি, ওই পরিবারগুলো নিজেদের শিবিরের মূল সম্প্রদায় থেকে আলাদা করে রেখেছে এবং খুব কমই অন্য পরিবার বা শিবির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

হাকমিয়েহ ইব্রাহিম জানান, প্রথম দলটি চলে যাওয়ার পর বাকি পরিবারগুলোর কেউ কেউ স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তবে কবে নাগাদ অস্ট্রেলীয়রা শিবির ছাড়বেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানা নেই।

তিনি বলেন, “অধিকাংশ পরিবারের কাছেই পাসপোর্ট রয়েছে। কাউকে ভ্রমণে নিষেধ করা হয়নি। শুরু থেকেই সবার পাসপোর্ট ছিল।”

আল রোজের মতো সিরিয়ার আরও কয়েকটি শিবিরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এখনও অবস্থান করছেন। তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ইউরোপজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

২০২১ সালের মার্চে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সিরিয়া থেকে শিশুদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দেয়।

শিবির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে আল রোজ শিবিরে প্রায় দুই হাজার ৩০০ মানুষ বা প্রায় ৭৮০টি পরিবার রয়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত শুধু এপ্রিল মাসে অস্ট্রেলীয়দের একটি দলই শিবির ছেড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আইএস–সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জন্য পরিচালিত আরেকটি শিবির বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আল রোজ শিবিরের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আল রোজের দক্ষিণে অবস্থিত আল হোল শিবির দীর্ঘদিন কুর্দি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী সেখানে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয়।

২০১৯ সালেও কিছু অস্ট্রেলীয় পরিবার আল হোল শিবিরে অবস্থান করছিল। পরে সিরিয়ার সরকার শিবিরটি বন্ধ করে দেয় এবং সেখানে থাকা মানুষদের আলেপ্পোর কাছাকাছি নতুন একটি শিবিরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয়।

হাকমিয়েহ ইব্রাহিম বলেন, “পরিবারগুলোকে অন্য কোনো শিবিরে নেওয়া হবে কি না, তা আমরা জানি না। তবে আপাতত আল রোজ শিবির চালু রয়েছে।”

সূত্রঃ এবিসি নিউজ

এই শাখার আরও খবর

২০০ টাকার লোভে অক্সিজেন মাস্ক বিচ্ছিন্ন, শ্বাসকষ্টে প্রাণ গেল দিপালী সিকদারের

মেলবোর্ন, ১৪ মে- মাত্র ২০০ টাকার বকশিশকে কেন্দ্র করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক হাসপাতাল…

শিশু যৌন অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তির পক্ষে সুপারিশপত্র, অস্ট্রেলিয়ায় মেয়রের পদত্যাগ দাবি

মেলবোর্ন, ১৪ মে- অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের  উইন্ডহ্যাম সিটি কাউন্সিলের মেয়র প্রীত সিংকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের একাধিক সংসদ সদস্য। শিশু যৌন অপরাধে…

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩৯

মেলবোর্ন, ১৪ মে- দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর…

অস্ট্রেলিয়ায় বাজেট-পরবর্তী জরিপে আলবানিজকে ছাড়িয়ে এগিয়ে গেল ওয়ান নেশন

মেলবোর্ন, ১৪ মে- অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিতর্কিত বাজেট ঘোষণার পর প্রকাশিত প্রথম বড় জনমত জরিপে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। জরিপে দেখা গেছে,…

একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর বিদায়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা

মেলবোর্ন, ১৪ মে- মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকা, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন, স্বাধীনতার পর সমাজের অবহেলা আর দীর্ঘ সংগ্রামের এক জীবন্ত সাক্ষী ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী।…

৩৫ হাজার কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন, কতটা প্রভাব পড়বে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে

মেলবোর্ন, ১৪ মে- দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসংকট নিরসন, মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনর্জীবিত করা এবং কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পদ্মা নদীর ওপর প্রায় ৩৫ হাজার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au