অস্থির হয়ে উঠেছে মায়ন আগ্নেয়গিরি, নতুন ভূকম্পন
মেলবোর্ন, ১৬ মে- ফিলিপাইনের বিখ্যাত মায়ন আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে তীব্র অস্থিরতার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কয়েক ডজন আগ্নেয় ভূমিকম্প, লাভা প্রবাহ এবং পাইরোক্লাস্টিক…
মেলবোর্ন, ১৬ মে- গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় জরুরি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল রজার কাম্বা মুলাম্বা শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে জানান, পরীক্ষাগারে এখন পর্যন্ত বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসের অন্তত আটটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে রুয়ামপারা, মঙ্গওয়ালু ও বুনিয়া স্বাস্থ্য এলাকা। এ ছাড়া মোট ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন বুনিয়ার ইভানজেলিক্যাল মেডিকেল সেন্টারের এক নার্স। জ্বর, রক্তক্ষরণ, বমি এবং তীব্র দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এরপর দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঙ্গো সরকার জরুরি জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম কেন্দ্র চালু করেছে। একই সঙ্গে আক্রান্তদের শনাক্তে পরীক্ষাগার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, ইতুরি প্রদেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সংস্থাটি কঙ্গো, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করছে, যাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা যায়।
আফ্রিকা সিডিসি বলছে, অধিকাংশ মৃত্যু ও সংক্রমণের ঘটনা মঙ্গওয়ালু ও রুয়ামপারা অঞ্চলে শনাক্ত হয়েছে। প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়াতেও নতুন সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের প্রাদুর্ভাব আরও জটিল হতে পারে, কারণ এটি ইবোলার জাইর ধরনের নয় এমন একটি স্ট্রেইন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ টিকা ও চিকিৎসা মূলত জাইর ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়ায় নতুন এই স্ট্রেইন মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
কঙ্গোর খ্যাতিমান ভাইরোলজিস্ট জ্যাঁ-জ্যাক মুইয়েম্বে, যিনি ইবোলা ভাইরাসের সহআবিষ্কারকদের একজন, জানিয়েছেন যে কঙ্গোতে আগের ১৬টি ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ১৫টিই জাইর ধরনের ভাইরাসের কারণে হয়েছিল। ফলে এবারের পরিস্থিতি স্বাস্থ্যখাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এদিকে উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কঙ্গো থেকে আসা এক ব্যক্তি রাজধানী কাম্পালায় বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে এখন পর্যন্ত দেশটির অভ্যন্তরে স্থানীয়ভাবে আর কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে খনিশিল্পের কারণে মানুষের চলাচল অনেক বেশি। পাশাপাশি উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্ত ঘেঁষা হওয়ায় ভাইরাসটি দ্রুত অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au