ইসলা বেলের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে রাস্তায় শত মানুষ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ মে- অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে তরুণী আইলা বেলের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা ও অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ প্রত্যাহার করায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন তাঁর পরিবার, বন্ধু ও সমর্থকেরা।
শনিবার মেলবোর্নের কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকায় স্টেট লাইব্রেরির সামনে আয়োজিত ওই সমাবেশে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন। তাঁদের হাতে ছিল নিহত আইলা বেলের ছবি ও বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড। সমাবেশে বক্তব্য দেন আইলার মা জাস্টিন স্পোকস। বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
গত সপ্তাহে প্রসিকিউটররা অভিযুক্ত মারাত গানিয়েভের বিরুদ্ধে আনা অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ জানায়, পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে দণ্ড নিশ্চিত হওয়ার যৌক্তিক সম্ভাবনা না থাকায় অভিযোগটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
১৯ বছর বয়সী আইলা বেলকে সর্বশেষ জীবিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল মারাত গানিয়েভের সেন্ট কিল্ডা ইস্ট এলাকার বাসায়। এর প্রায় ছয় সপ্তাহ পর একটি আবর্জনার স্তূপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
যদিও হত্যার অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও ৫৫ বছর বয়সী মারাত গানিয়েভের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টার অভিযোগ এখনো রয়েছে। অন্যদিকে আইলার মরদেহ রাখা একটি ফ্রিজ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত এয়াল ইয়াফেকে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সমাবেশে আইলার মা জাস্টিন স্পোকস বলেন, অভিযোগ প্রত্যাহারের ঘটনায় তিনি ভেঙে পড়েছেন। তাঁর ভাষায়, এমন ফলাফলের আশঙ্কা তিনি করলেও হৃদয়কে এর জন্য প্রস্তুত করতে পারেননি। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল সোনিয়া কিলকেনির সঙ্গেও কথা বলেছেন।
জাস্টিন স্পোকস লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার সংবাদ প্রকাশে ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ বা ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার প্রবণতা ঠেকাতে ট্রমা-সচেতন জাতীয় গণমাধ্যম নীতিমালা চালুর দাবি জানান। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় পারিবারিক ও যৌন সহিংসতা বিষয়ক রয়্যাল কমিশনের সুপারিশ অনুসরণ করে এমন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে অংশ নেওয়া আইলার শৈশবের দুই বন্ধু মিয়া ও কিরা তাঁর স্মৃতিচারণ করেন। কিরা বলেন, আইলা ছিলেন প্রাণবন্ত, সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ। তিনি অত্যন্ত সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।
মিয়া বলেন, আইলা প্রায়ই ছবি আঁকতেন এবং হাতে হেনা শিল্প করতেন। তিনি বন্ধুর সৃজনশীলতা ও শিল্পীসত্তার কথা স্মরণ করেন।
অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে কিরা বলেন, তিনি প্রচণ্ড রাগ ও কষ্টে কেঁদেছেন। অন্যদিকে বর্তমানে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা মিয়া বলেন, এই ঘটনা বিচারব্যবস্থার ওপর তাঁর আস্থা নষ্ট করেছে। তাঁর ভাষায়, এত অল্প বয়সে এমন অভিজ্ঞতা তাঁদের সবার বিশ্বাসকে ভেঙে দিয়েছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ