অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে ইহুদিবিদ্বেষ, ঘৃণার প্রচারণায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পীদের জীবন

  • 8:41 pm - May 17, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৫২ বার
Commissioner Virginia Bell handed down the interim report with its 14 recommendations on April 30, 2026. ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৭ মে- অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ এবং অনলাইন ঘৃণামূলক প্রচারণার কারণে বহু ইহুদি শিল্পী ও সংগীতশিল্পীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উঠে এসেছে দেশটির অ্যান্টি-সেমিটিজম ও সামাজিক সংহতি বিষয়ক রয়্যাল কমিশনের শুনানিতে। সেখানে শিল্পীরা তাদের জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মেলবোর্নের খ্যাতিমান স্যাক্সোফোনবাদক ও সুরকার জশুয়া মোশে কমিশনের সামনে বলেন, অনলাইনে তাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত ঘৃণামূলক প্রচারণা তার বহু বছরের সংগীতজীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি জানান, সাত বছর ধরে যেই ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন, সেই ব্যান্ড থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি হারাতে হয়েছে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও।

জশুয়া মোশে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে দিয়ে তাকে ‘জায়নিস্ট’, ‘বয়কট’ এবং নানা বিদ্বেষমূলক শব্দে আক্রমণ করা হয়। এ ঘটনার পর তিনি অসংখ্য হুমকি ও ঘৃণামূলক বার্তা পেতে থাকেন। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজের জীবন ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অনুভব করেন।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় গায়িকা ও গীতিকার ডেবোরাহ কনওয়ে। তিনি বলেন, তাকে ঘিরেও সংগঠিত বয়কট প্রচারণা চালানো হয়, যার ফলে কয়েকটি সংগীতানুষ্ঠান বাতিল হয়ে যায়।

ডেবোরাহ কনওয়ে জানান, এক অনুষ্ঠানের বাইরে প্রায় ৭০ জন মুখোশধারী বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, “আমি শান্তি চাই। আমি চাই দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান হোক। সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে।”

রয়্যাল কমিশনের শুনানিতে বিশেষজ্ঞ সাক্ষীরাও অস্ট্রেলিয়ায় অনলাইন ও সরাসরি ইহুদিবিদ্বেষ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে সতর্ক করেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে তারা জানান।

ছবিঃ সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ান জিউরি এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের ২০২৪-২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ইহুদিবিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা ৩১৬ শতাংশ বেড়েছে।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল কাউন্সিল অব জিউইশ উইমেন পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৬৮ জন ইহুদি নারীর মধ্যে ৮১ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা নিজেরা অথবা তাদের পরিবারের সদস্যরা সরাসরি ইহুদিবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন।

শুনানিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সামাজিক বিভাজন ও ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনলাইন বিদ্বেষ ও সংগঠিত ঘৃণামূলক প্রচারণা শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সম্প্রীতিকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এই শাখার আরও খবর

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au