বাংলাদেশ

শেখ হাসিনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা নজরদারি, নেপথ্যে কারা

  • 1:59 pm - May 18, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৩৩ বার
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফাইল

মেলবোর্ন, ১৮ মে- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই তৎপরতার কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলাদেশি এক যুবক, যিনি নিজেকে শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ তৈরি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং সেগুলো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

অভিযোগে উঠে আসা ওই যুবকের নাম মো. জিম জুবাইদ। তিনি সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করলেও একাধিক সূত্র বলছে, তার পরিচয় ও অতীত নিয়ে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল টি এম জুবায়েরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুজনই দেশ ছাড়েন। পরে দিল্লিতে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বলয়ে প্রবেশের সুযোগ পান জিম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দিল্লি ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিষয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করছেন তিনি। এসব তথ্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি এবং পাকিস্তানের আইএসআইয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

মো. জিম জুবাইদ। ছবিঃ সংগৃহীত

এ বিষয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘নিউ দিল্লি পোস্ট’-এ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়, শেখ হাসিনার সাবেক ‘প্রটোকল অফিসার’ পরিচয়ে ভারতে অবস্থান করে জিম বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং স্ত্রীর মাধ্যমে তা তুরস্কে পাঠানো হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, তার স্ত্রী গত বছর একাধিকবার তুরস্ক সফর করেছেন এবং এমআইটি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

তবে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে জিম জুবাইদ কখনোই তার প্রটোকল কর্মকর্তা ছিলেন না। তাকে কখনো গণভবন বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। বরং তিনি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, তিনি নিজেকে কখনো মেজর, কখনো গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করেন। অথচ বাস্তবে তিনি নৌবাহিনীতে দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব পালন করেননি। কেউ কেউ দাবি করছেন, ক্যাডেট থাকা অবস্থাতেই তিনি বাহিনী থেকে বহিষ্কৃত হন। যদিও তার পরিবার দাবি করছে, তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন।

জানা গেছে, জিম জুবাইদের পাসপোর্ট নম্বর বি-০০১০৩৭৬৬। তিনি ভারতের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরেনসিক সায়েন্স বিভাগে পিএইচডি করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বর মাসে তিনি সর্বশেষ গাইবান্ধার গ্রামের বাড়িতে যান। এরপর আর এলাকায় দেখা যায়নি। তবে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

জিমের বাবা মো. রেজাউল করিম, যিনি গাইবান্ধার জয়েনপুর আদর্শ কলেজের সাবেক প্রভাষক, প্রথমে পরিচয় গোপন রেখে কথা বলার সময় দাবি করেন, তার ছেলে ভারতে পিএইচডি করছেন এবং তিনি সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা। পরে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জিম দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকায় থাকতেন এবং বড় বড় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে এলাকায় প্রচার ছিল। আগে তাদের পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল থাকলেও পরে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।

একাধিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্র বলছে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নতুন করে আন্তর্জাতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা। ছবিঃ সংগৃহীত

অভিযোগ রয়েছে, জিম জুবাইদ শুধু তথ্য সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ নন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভয়ভীতি দেখানো, চাঁদাবাজি, পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি তিনি এক আফ্রিকান নারীর ছবি ব্যবহার করে তাকে শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের কন্যা দাবি করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া ‘ওয়াইজ-গভ’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি গবেষণাধর্মী প্ল্যাটফর্মের আড়ালে তথ্য চুরির ফাঁদ হতে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষক মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কোনো মহল পরিকল্পিতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তিনি বলেন, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে গিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে এবং তা প্রমাণিত হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সূত্রঃ কালবেলা

এই শাখার আরও খবর

মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে ছয় মাস ধরে বলাৎকার করছিলেন ৬জন

সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ…

বাংলাদেশে পানির লবণাক্ততা: নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস ও নদীপথে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে উপকূলের বিস্তীর্ণ…

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ঢাকায় উদযাপিত হলো জন্মাষ্টমী

যথাযোগ্য মর্যাদায় হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি, শুভ জন্মাষ্টমী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ…

আরজি করের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যা: সাবেক পৌর চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মরদেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও তৃণমূল…

ব্রিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা, তারেকের সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশের হয়ে অন্য কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন…

বিএনপি নেতাদের অভিনন্দন জানালেন ৩ উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তত তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au