গত তিন বছর ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন তারা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ মে- মাদারীপুর শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত গভীর রাতে শহরের আমিরাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহতরা হলেন, মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকার চিত্ময় দাস, তার স্ত্রী ইশা দাস এবং তাদের ৮ মাস বয়সী সন্তান।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, শহরের আমিরাবাদ এলাকার মৃত বীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্ত্রী সান্তনা রানী চন্দের বাসায় গত তিন বছর ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সাতপাড় এলাকার ইতালি প্রবাসী যতীন বাড়ৈর স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলের দিকে চিন্ময় দাস তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে ওই বাসায় আসেন। তারা নিজেদের মিষ্টি বাড়ৈর চাচাতো ভাই পরিচয় দেন। পরে গভীর রাতে মিষ্টি বাড়ৈর ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে একটি কক্ষের দরজা ভেঙে শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনার সময় পাশের কক্ষে একাই ছিলেন মিষ্টি বাড়ৈ। কীভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহের তালিকায় মিষ্টি বাড়ৈকে রাখা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ ও অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থা।
র্যাব-৮-এর মাদারীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি আত্মহত্যা। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।