কেন হিন্দু নাম ফিরিয়ে আনছে পাকিস্তান?
মেলবোর্ন, ১৮ মে- পাকিস্তানে লাহোরে পুরোনো হিন্দু ও ঐতিহাসিক নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকারের উদ্যোগে শহরের একাধিক এলাকার নাম…
মেলবোর্ন, ১৭ মে- ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাস ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৩৩৬ জনের সন্দেহজনক সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
আফ্রিকা সিডিসি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রাদুর্ভাব ইবোলার ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ভাইরাসের কারণে ছড়িয়েছে। এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো কোনো কার্যকর টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা উদ্ভাবিত হয়নি। ফলে আক্রান্তদের মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা জানিয়েছেন, এই ভাইরাসে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন একজন নার্স। গত ২৪ এপ্রিল তিনি ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইবোলাসদৃশ উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি ভাইরাস। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রক্ত, বমি, ঘাম বা অন্যান্য তরলের সংস্পর্শে এ রোগ ছড়ায়। জ্বর, দুর্বলতা, বমি, ডায়রিয়া ও রক্তক্ষরণ এ রোগের সাধারণ উপসর্গ।
এদিকে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও একজন কঙ্গোলিজ নাগরিকের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সংক্রমণ আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, তারা জরুরি ভিত্তিতে বড় পরিসরে চিকিৎসা ও সহায়তা কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক রোগী চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছেন এবং অনেকে বাড়িতেই মারা যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এটি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au