কেন হিন্দু নাম ফিরিয়ে আনছে পাকিস্তান?
মেলবোর্ন, ১৮ মে- পাকিস্তানে লাহোরে পুরোনো হিন্দু ও ঐতিহাসিক নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকারের উদ্যোগে শহরের একাধিক এলাকার নাম…
মেলবোর্ন, ১৮ মে- হরমুজ প্রণালিতে সামরিক ও জ্বালানি কৌশলের পর এবার বৈশ্বিক ডিজিটাল অবকাঠামোকেও নতুন চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ইরান। পারস্য উপসাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে তেহরান, যা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট যোগাযোগ ও আর্থিক ব্যবস্থার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও কট্টরপন্থি রাজনৈতিক মহল দাবি করছে, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ক্যাবলগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ইন্টারনেট যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন। এসব ক্যাবলের মাধ্যমে ইউরোপ, এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ডেটা, ব্যাংকিং তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়।
তেহরানের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব ক্যাবল ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানির কাছ থেকে লাইসেন্সিং ফি বা ট্রানজিট মাশুল আদায় করা হতে পারে। দেশটির আইনপ্রণেতারা ইতোমধ্যে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে ইরানের জলসীমা অতিক্রমকারী সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ক্যাবল ব্যবস্থার ওপর নতুন নীতিমালা কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও আমাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইরানের নতুন নিয়ম মেনে চলতে হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাবমেরিন ক্যাবল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব স্থানীয় কোম্পানির হাতে দিতে হবে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর পক্ষে ইরানকে অর্থ প্রদান করা আইনগতভাবে জটিল হয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। কারণ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবুও বিষয়টি স্পষ্ট করছে যে, তেহরান এখন শুধু তেল পরিবহন নয়, বৈশ্বিক ডিজিটাল অবকাঠামোকেও কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগের বড় অংশই সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ক্লাউড সেবা, সামরিক যোগাযোগ, ফ্রিল্যান্সিং খাত ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক দিনা এসফান্দিয়ারির মতে, ইরান এমন একটি বার্তা দিতে চাইছে যাতে ভবিষ্যতে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে গেলে প্রতিপক্ষকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হয়।
এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ইরানের কম্ব্যাট ডাইভার, ছোট সাবমেরিন ও আন্ডারওয়াটার ড্রোন সক্ষমতা থাকায় সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে যেকোনো উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি বাণিজ্য, ভারতের আউটসোর্সিং শিল্প এবং ইউরোপ-এশিয়ার আর্থিক লেনদেন এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au