দরজায় কড়া নাড়ছিলেন মা, ভেতরে খুন করা হচ্ছিল শিশু রামিসাকে
মেলবোর্ন, ২০ মে- রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে,…
মেলবোর্ন, ২০ মে- বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর করা তিনটি আবেদনই নামঞ্জুর করেছেন আদালত। ষষ্ঠবারের মতো সময়ের আবেদন ছাড়াও তার পক্ষে করা জামিন ও চিকিৎসার আবেদনও শুনানি ছাড়াই খারিজ করা হয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ জাহিদুল হকের আদালত এ আদেশ দেন। শুনানির সময় কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত ছিলেন। অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত একই সঙ্গে মামলার প্রথম সাক্ষী নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের পিতার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সমাপ্ত ঘোষণা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৪ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, আসামিপক্ষের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য্য সাক্ষী জেরার জন্য সময় আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, প্রধান আইনজীবী অসুস্থ থাকায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসতে পারেননি। তবে শুনানির সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এস ইউ নুরুল ইসলাম সময় আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, অসুস্থতার অজুহাতে ধারাবাহিকভাবে সময় চাওয়া আদালতের প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পরে আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
একইসঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন এবং ডান হাত ও শরীরের ডান পাশ অবশ হয়ে যাওয়ার অভিযোগে চিকিৎসার আবেদনও আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে শুনানি ছাড়াই খারিজ করা হয়।
কিন্তু তার আইনজীবী বলেন যে আলিফ হত্যার সময়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু জেলখানায় ছিলেন তাহলে কেমন করে তিনি তাকে হত্যা করলেন?
আসামিপক্ষের আইনজীবী যদি দাবি করে থাকেন যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী ঘটনার সময় কারাগারে ছিলেন, তাহলে সেটি মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা যুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে শুধু এই দাবি থাকলেই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায় না।
ফৌজদারি আইনে “ঘটনার সময় কোথায় ছিলেন” বিষয়টি প্রমাণ করতে হয় অফিসিয়াল নথি দিয়ে। যেমন কারাগারের হাজিরা রেকর্ড, কারা কর্তৃপক্ষের লগবুক বা আদালতের রিমান্ড ও হাজিরার নথি। যদি এসব নথিতে দেখা যায় তিনি সত্যিই ওই সময় কারাগারে ছিলেন, তাহলে ঘটনাস্থলে সরাসরি হত্যায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ দুর্বল হয়ে যায়।
মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আদালত ভবনের বিভিন্ন তলায় উৎসুক মানুষ ও আইনজীবীদের ভিড় দেখা যায়। আসামিদের আনা-নেওয়ার সময় আদালত এলাকায় উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, নিহত আলিফের প্রায় ৮০ বছর বয়সী বাবা প্রতিটি তারিখে আদালতে হাজির হলেও বারবার সময় আবেদনের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছিল। আদালতের এ আদেশে তারা সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলার চার্জশিটে প্রায় ৫০ জন সাক্ষীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au