রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ২০ মে- রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ গোপন করার জন্য শরীরের অংশ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে মিরপুর–১১ এলাকার বি ব্লকের একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে। মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে মোহাম্মদ জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা (৩০) এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে শিশুটির মা রামিসা আক্তারকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং পরে পাশের ফ্ল্যাটে গিয়ে সন্দেহজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। দরজার সামনে শিশুটির স্যান্ডেল দেখতে পান তিনি। তখন তিনি দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন, কিন্তু ভেতরে তখনই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রামিসা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ বলে মনে হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে শিশুটির শরীরের অংশ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়, যাতে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত জাকির হোসেন জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অবস্থান করছেন। সেখানেই বিকাশ লেনদেনের সময় একটি দোকান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয় এবং তা সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিহত শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া স্বপ্না আক্তার দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন এবং কিছুই জানতেন না। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলের আলামত ও প্রাথমিক তথ্য তার বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিকৃত মানসিকতার কারণেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে হত্যার মূল কারণ এবং পুরো ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au